মোগলনামা - ৪


চৌসার যুদ্ধের প্রায় চার মাস পরের কথা। ছেঁড়াখোঁড়া পোশাকের এক ছেলে মুঘল সম্রাট হুমায়ূনের সাক্ষাৎ প্রার্থনা করে। ছেলেটি শেষ পর্যন্ত শুধু সম্রাটের সাক্ষাৎ-ই পায় না, বরং পায় এক অভাবনীয় পুরস্কার। এই বালকটি নিজাম। ভিস্তিওয়ালা। চৌসার যুদ্ধে হুমায়ূনের জীবন বাঁচানোর পর হুমায়ুন তাকে একদিনের সম্রাট করার ওয়াদা করেছিলেন। অবাক করার মত বিষয় হল, হুমায়ূন তার প্রতিশ্রুতি ভুলে যাননি। তিনি নিজামকে সিংহাসনে বসতে দেন (#১)। এমনকি এ-ও বলেন যে এ সময়ে নিজামের জারি করা যে কোন ফরমান, রাজকীয় ফরমান বলে গন্য হবে এবং তা পালিত হবে। সম্রাটের এমন খেয়ালী আচরণে অনেক অমাত্যই ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত হয়েছিলেন কিন্তু প্রতিশ্রুতি পালনে হুমায়ূন বদ্ধ পরিকর।

হুমায়ূন সুরাসক্ত হয়েছিলেন। সেই সঙ্গে ছিল জ্যোতিষ শাস্ত্রে অতিরিক্ত ভক্তি। সব মিলিয়ে তিনি খামখেয়ালী সম্রাট বলেই পরিচিত হয়েছিলেন। অসন্তোষ ছিল অনেকের মাঝে। কিন্তু চৌসার যুদ্ধের পরপর সে অসন্তোষের বাষ্প কেটে যাচ্ছিল ধীরে ধীরে। তার সভাসদ, আত্মীয় সকলেই তার পরিবর্তন অনুভব করেছিলেন। কিন্তু সামান্য এক ভিস্তিওয়ালাকে সিংহাসনে বসানোর মত সিদ্ধান্তে সবার মাঝে বিস্ময় ও শিহরণ বয়ে যায়। তারা ভাবতে থাকেন হুমায়ূন আবার সুরাসক্ত হয়েছে। হয়ত সে কারনেই পরাজিত হয়েছেন শের শাহ্‌-র কাছে। তাহলে হুমায়ূনের উপর ভরসা করা যায় না। সুতরাং, শুরু হয় ষড়যন্ত্র।

কামরান মির্জা। জহিরুদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের দ্বিতীয় সন্তান। হুমায়ূনের চেয়ে মাত্র কয়েক মাসের ছোট। দক্ষ শাসক, কুশলী সমরবিদ, দুঃসাহসী কামরান। সম্রাট হওয়ার সব গুণ তার মাঝে আছে। কামরান মনে করতেন মোগল সিংহাসনের যোগ্য তিনি নিজেই। কেবল অতিরিক্ত স্নেহের বসেই বাবর হুমায়ূনকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করেছেন।
মোগল ইতিহাসে সর্বপ্রথম অন্তঃবিদ্রোহ ছিল কামরানের বিদ্রোহ। প্রথমে সে হুমায়ূনকে হত্যার পরিকল্পনা করতে গিয়ে ধরা পড়ে। তার প্ররোচনায় যোগ দিয়েছিল বাকি দুই ভাইও। তাদের কঠোর শাস্তিই পাওয়ার কথা, কিন্তু পিতা বাবর, হুমায়ূনকে বলেছিলেন ভাইদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে। হুমায়ূন তাই ক্ষমা করেছিলেন তিন ভাইকে। হুমায়ূন নিজেও স্নেহপরায়ণ ছিলেন, তাই তিনি ভাইদের শুধু ক্ষমাই করেননি বরং তাদেরকে বিভিন্ন প্রদেশের শাসক হিসেবে নিযুক্ত করেন। কিন্তু তাতেও কামরানের উচ্চাভিলাষ মেটে নি।

চৌসার যুদ্ধের পর কনৌজেও শের শাহের কাছে  হুমায়ূন পরাজিত হন। এই যুদ্ধে পরাজিত হয়ে শের শাহ-র হাতে আগ্রা ছেড়ে দিয়ে হুমায়ূনকে চলে আসতে হয় কাবুলে। এর মাঝে মৃত্যু হয় হুমায়ূনের মা মাহামের। মায়ের মৃত্যুর শোক মাথায় করে লাহোর এসে ভাইদের সাথে মিলিত হয়। সেখানে কামরান হুমায়ূনদের জ্যোতিষ বিদ্যার উপর ভরসা করাকে তার পরাজয়ের কারন হিসেবে দেখান। অপরদিকে হুমায়ূন বলেন, কামরান যদি উপযুক্ত লোকবল দিয়ে সাহায্য করত, তবে সে হারত না। 
এখানে ছিল কামরানের ঈর্ষা আর রাজনীতি। হুমায়ূনের কাছে কামরান প্রস্তাব করেছিল যুদ্ধের ময়দানে সে তার বাহিনীর প্রধান হিসেবে হুমায়ূনের পাশে যুদ্ধ করবে। কিন্তু কামরানের প্রদেশ অরক্ষিত থাকবে বলে হুমায়ূন তাকে নিরস্ত করেন। চতুর কামরান বুঝতে পারেন যে শুধু সেনাবল দিয়ে সাহায্য করার পর যুদ্ধে জয় হলে নাম হবে হুমায়ূনের। তাই কামরান স্বল্প সংখ্যক সৈন্য প্রেরন করেন। এমনকি হুমায়ূন যখন লাহোরে অবস্থান করে শের শাহ্‌-র বিরুদ্ধে অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন কামরান তাকে উপযুক্ত সৈন্য সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। শুধু তাই-ই নয়, কামরান শের শাহ্‌-কে চিঠি লিখে জানায় যে হুমায়ূনকে শের শাহ্‌-র হাতে তুলে দিতে কামরান প্রস্তুত। 

ভাইয়ের এই বিশ্বাসঘাতকতার জবাব দেওয়ার সুযোগ হুমায়ূনের ছিল না। মা গুলরুখ ও আপন ভাই আসকারিকে নিয়ে পালিয়ে যায় কামরান। তাদের ছোট ভাই হিন্দাল পালিত হয়েছিল হুমায়ূনের মা মাহামের কাছে, আর গুলবদন খানজাদার কছে। তাই কামরানের শঠতা তাদের মাঝে ছিল না। হিন্দাল হুমায়ূনের সাথেই ছিল। তবু হুমায়ূন দুর্বল। যুদ্ধে টিকতে পারবেন না বুঝতে পেরে শের শাহ্‌-র হাতে লাহোর তুলে দিয়ে হুমায়ূন কাবুলের দিকে যাত্রা করেন। এখান থেকেই হুমায়ূনের আপাত যাযাবর জীবন শুরু হয়।

কিন্তু, পলায়ন মানেই সব আশা ছেড়ে দেওয়া নয়। পলায়ন মানে পিছু হটে গিয়ে আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়া। এবং সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় মিত্রের। কেননা মিত্রের সহায়তায় নতুন বাহিনী গঠন করা যায়। পলায়নের প্রথম পর্যায়ে হুমায়ূন মিত্রতার আশায় ভাই হিন্দালকে নিয়ে সিন্ধে গমন করেন। সিন্ধের সুলতান মির্জা হুসেন, হুমায়ূনের আতিথ্যে ত্রুটি রাখেন নি। তার কাছ থেকেই হুমায়ূন জানতে পারেন যে তার সৎ ভাই কামরান কাবুল নদীর উত্তরে বাদখশানে চলে গেছে। মির্জা হুসেন নিজের কন্যার সাথে হুমায়ূনের বিয়ের প্রস্তাবও করেন। কিন্তু মিত্রতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে হুমায়ূনকে তার পথ নিজেকে খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
হুমায়ূনের পরবর্তী গন্তব্য ছিল মাড়ওয়ার। সিন্ধ থেকে উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মাড়ওয়ারের রাজা মালদেওকে একবার শের শাহ্‌ অপমান করেছিল। সুতরাং শত্রুর শত্রুকে বন্ধুরূপে পাওয়ার আশা হুমায়ূনের ছিল। এ বিষয়ে হিন্দালের সাথে তিনি পরামর্শ করেছিলেন। হিন্দালের সাথে সম্পর্ক অনেকটা সহজ হয়ে এসেছিল হুমায়ূনের। হুমায়ূন ভাবছিলেন ভ্রাতৃত্বের এই বন্ধন যতই দৃঢ় হবে, তার পক্ষে হিন্দুস্তান পুনরুদ্ধার ও শক্তিশালী শাসন প্রতিষ্ঠা করাও সজহতর হবে। ভাইয়ের সঙ্গে দূরত্ব কমে আসায় সে খুশি। এরকম কথা পাওয়া যায় আলেক্স রাদারফোর্ডের 'মোগল সিরিজে'। কিন্তু সত্যিকার অর্থে হিন্দালের সাথে হুমায়ূনের সম্পর্ক এতটা সহজ হয়নি। বরং একসঙ্গে থাকাকালীন তাদের মাঝে বারবার মতানৈক্য হয়।

এবার আমরা হুমায়ূনের ব্যক্তিগত জীবনের দিকে দৃষ্টি ফেরাতে পারি। তার জীবনে কি প্রেম আসেনি? এসেছিল। হুমায়ূনের ফুফু খানজাদা আর বোন গুলবদনের খোঁজ নিতে গিয়ে তাদের সাথে থাকা এক বালিকার দিকে তার চোখ নিবদ্ধ হয়। তারপর যাকে বলে প্রথম দর্শনেই প্রেম। যাযাবর জীবনযাপন করলেও হুমায়ূন মোগল সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। তাই কাঙ্ক্ষিত যে কোন কিছুই তিনি লাভ করতে উদগ্রীব। মেয়েটির বাবা হিন্দালের একজন পরামর্শদাতা। তার সাথে কথা বলে জানা যায় যে হামিদার প্রতি হিন্দাল দুর্বল (#২)। তা ছাড়াও মেয়েটি নেহায়েত কিশোরী। এখনই তার বিয়ের কথা তার বাবা ভাবছেন না।
হুমায়ূন হয়ত ভালোবেসেছিলেন হামিদাকে। সে আমরা জানি না, ইতিহাসও জানে না। তবে এই বিয়ের ফলে একটা সম্ভাবনার মৃত্যু হয়। হিন্দাল সত্যিই হামিদাকে পছন্দ করত। কিন্তু সম্রাটের ইচ্ছার কাছে নিরুপায় হিন্দাল একজন নিরুপায় প্রেমিক। তাই আহত হয়ে সে ভাইয়ের সঙ্গ ত্যাগ করে চলে যায়। এবং হুমায়ূনের সাথে হামিদার বিয়ে হয়।

হামিদাকে বিয়ে করে সুখী হয়েছিলেন হুমায়ূন। অন্তত আমরা তাই ভেবে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারি। যেমন সামনে এগিয়েছিলেন হুমায়ূন। সিন্ধ থেকে মাড়ওয়ার। হিন্দাল চলে যাওয়াতে হুমায়ূনের কাফেলা আরও ছোট হয়ে এসেছিল। সামান্য কয়েকজন বিশ্বাসী ভৃত্য-কর্মচারী নিয়ে পথ চলছিলেন তিনি। কিন্তু, পথের কষ্ট ভুলে গেলেন সবাই, যখন মালদেও সাদরে তাদের গ্রহণ করলেন। এখানেও আতিথ্যের ত্রুটি হল না। রাজপুতানা গৌরব স্মরণ করে মালদেও হুমায়ূনকে সাহায্য করার কথা বললেন।
কিন্তু মালদেওর প্রাসাদে চলছিল অন্য এক নাটক। মালদেও আসলে মুরগীকে খাইয়ে দাইয়ে নধর করে তুলছিলেন। সেই সঙ্গে শের শাহ্‌-র সঙ্গে চলছিল তার দর কষাকষি। হুমায়ূন ও তার দলবলকে শের শাহ্‌-র হাতে তুলে দিয়ে মোটা পুরস্কারের আশা করছিলেন মালদেও। সেই বিষয়ে চিঠি চালাচালি করছিলেন শের শাহ্‌-র সঙ্গে। কিন্তু ভাগ্যগুনে সে কথা জেনে যান হুমায়ূন-হামিদা। তারপর ছক কষে শিকারে যাওয়ার বাহানা করে পালিয়ে আসেন মাড়ওয়ার থেকে (#৩)।

এরপরের যাত্রা আরও কঠিন, কেননা কোন নিশ্চয়তা নেই। ভবঘুরে জীবন হুমায়ূনের। কোন অবলম্বন নেই। দিনকে দিন লোকবল কমছে। যারা সাধারণত লাভের আশায় যুদ্ধে যোগ দেয়, তারা চলে গেছে বহু আগে। এখন যারা আছে তারা মোগল বৃত্তিভোগী। বন্ধুর মত পাশে ছিলেন কিছু বিশ্বস্ত মানুষ (#৪)। আর ছায়া হয়ে উঠেছিল জওহর। কিন্তু অন্যদের আটকে রাখা সম্ভব না। মরুপথের কষ্ট সহ্য করে তারা থাকতে চাইবেও না। তবু এগিয়ে চলছেন হুমায়ূন।

এমন অবস্থায় হামিদা সন্তানসম্ভবা। এতো কষ্টের মাঝেও হুমায়ূন তার স্ত্রীর আরামের যথাসাধ্য ব্যবস্থা করেছেন। চলতি পথে আমরকোটের কাছাকাছি এসে হামিদার প্রসববেদনা ওঠে। খুব কম বয়সী বলে হামিদার প্রসব সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দেয়। তবু মন্দের ভালো, খুব দ্রুতই আমরকোট থেকে সাহায্য নিয়ে আসে জওহর। হামিদাকে নিয়ে যাওয়া হয় আমরকোটের দুর্গে। সেখানে তিনি একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। পরিচারিকার কাছে সে খবর পেয়ে হুমায়ূন একটি কস্তরীর শিশি পাঠিয়ে দেন, নবজাতকের কামরায় তা ভাঙার জন্য। সুরভিত হোক নবজাতকের জীবন। কিংবা বহু যত্নে রাখা মৃগনাভিটি কেটে ভাগ করে দেন তার অমাত্যদের মাঝে।
১২ অক্টোবর, ১৫৪২ হামিদা সন্তান প্রসব করেন। চন্দ্রের প্রভাবযুক্ত সিংহ জাতক এই পুত্রটির নাম রাখা হয় জালালউদ্দিন। যে পরবর্তীতে পুরো পৃথিবীতে ‘আকবর’ নামে পরিচিত হয়।

নোটঃ 
বৈরাম খান। হুমায়ূন, আকবর এবং মুঘল সাম্রাজ্যের সাথে নামটি অঙ্গাঙ্গী জড়িত। কিন্তু, এ পর্যন্ত কোথাও তার কথা উল্লিখিত হয় নি। কেননা, জওহরের (#ক) ‘তাজকিয়াতুল ওয়াকিয়াত’ এবং গুলবদনের (#খ) ‘হুমায়ূননামা’ দুটি বইয়েই বৈরাম খানের প্রথম উল্লেখ আকবরের জন্মের পর, হুমায়ূন যখন গুজরাটে, তখন। 
#কঃ জওহর-সম্রাট হুমায়ূনের সেবক। জওহর আফতাবচী। ফার্সি ভাষায় আফতাব অর্থ পানি। সম্ভবত জওহর প্রথমে হুমায়ূনের পানি বহনকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে জওহর অনেকটা হুমায়ূনের সহচরে পরিণত হন।
#খঃ হুমায়ূনের সৎ বোন। হিন্দালের সহোদরা।
#১ঃ জওহর বলেছেন নিজাম দুই ঘণ্টা সিংহাসনে বসেছিল। গুলবদনের মতে অর্ধদিবস। যেহেতু জওহর সম্রাটের কাছাকাছি থাকত, তার মতামতই বেশি গ্রহণযোগ্য।
#২ঃ জওহর তার বইয়ে বলেছেন হামিদাকে বিয়ে করতে চাওয়ায় হুমায়ূনের প্রতি ক্রোধান্বিত হন হিন্দাল। এবং বিয়ের পর তিনি হুমায়ূনের সঙ্গ ত্যাগ করেন। জওহরের বয়ানে হিন্দালের এহেন ক্রোধের কোন কারন দেখানো হয়নি। 
অপরদিকে গুলবদন বেগম বলেছেন হুমায়ূন যখন হামিদার পরিচয় জানতে চান তখন তার সামনে তার কতিপয় সভাসদ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মাঝে খাজা মোয়াজ্জম নামে এক ব্যক্তি হামিদাকে নিজের প্রণয়ী বলে দাবী করে। আশ্চর্যজনক ব্যপার হল গুলবদনের বইয়ে পাই হুমায়ূনের সামনে হিন্দাল হামিদাকে নিজের ভগিনী বলে সম্বোধন করে। কিন্তু এ বিয়ের ফলেই যে হিন্দাল হুমায়ূনের সঙ্গ ত্যাগ করে তা গুলবদনও স্বীকার করেছেন।
হিন্দাল যদি হামিদাকে নিজের ভগিনী বলেই ভাবতেন তবে হুমায়ূনের প্রতি তার ক্রোধ এতটা হওয়া স্বাভাবিক না। তাই হিন্দালকেই হামিদার প্রণয়ী ধরে নেওয়া যায়।
#৩ঃ আলেক্স রাদারফোর্ডের 'এম্পায়ার অব ব্য মোগল' সিরিজের বইয়ে বলা হয়েছে হুমায়ূন-হামিদা এবং আরও কিছু শীর্ষস্থানীয় অমাত্য মালদেও-র প্রাসাদে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে হামিদা, মালদেও-এর এক পত্নীর কাছ থেকে মালদেও-র দুরভিসন্ধির কথা জানতে পারেন। এবং হামিদা বানু হুমায়ূনকে সাবধান করেন। কিন্তু গুলবদন বেগমের বইয়ে পাই যে হুমায়ূন তার সৈন্য সহ মালদেও-র সীমানায় ছাউনি ফেলে অবস্থান করছিলেন এবং একজন দূতকে মালদেও-র কাছে পাঠিয়েছিলেন। ওই সময় মোগলদের বিশ্বস্ত কোন এক ব্যক্তি এসে হুমায়ূনকে সাবধান করে।