ফ্যোয়া একটি দ্বীপের নাম (দ্বিতীয় পর্ব)

ঠিক তিন মিনিট বাকি থাকতে ফেরীটা ধরতে পারলাম। আমরাই কিন্তু লাস্ট প্যাসেঞ্জার ছিলাম না। আমাদের পেছনে আরও দুইজন ছিল। প্রায় সাড়ে ছয়ফুট লম্বা একজন মাঝবয়সী বোহেমিয়ান ধরণের ভদ্রলোক আর তার প্রিয় গ্রেট ডেন প্রজাতির কুকুরটা। এই কুকুরের উচ্চতা আবার অবিস্মরণীয়। আমার কুকুরভীতি আছে। নেকড়ে ভীতিও আছে। উচ্চতার কারণেই সম্ভবত একে নেকড়ে নেকড়ে লাগছিল। দ্বিগুণ ভীতির কবলে পড়ে একটু কাঠ হয়েই লাইন ধরে এগুচ্ছিলাম। তবে ব্যবহারের দিক থেকে এ বেশ নির্লিপ্ত ধরণের। লাইনের আরেকটু সামনে মিস্টার হার্জের সেই স্নোয়ির মত দেখতে আরেকটি ছোট্ট দুষ্টু কুকুর সেই তখন থেকে কেঁউ কেঁউ করেই যাচ্ছিল- করেই যাচ্ছিল! দুই কুকুরের দেখা হলে কঠিন ঝগড়া হবার নিয়ম। কিন্তু গ্রেট ডেনটা পাল্টা খেঁকিয়ে না উঠে মন ডুবিয়ে চিন্তা ভাবনা করছে দেখে মুগ্ধ হলাম। জলের উদ্বেগ, ছোলম নিয়ে কের্তোন, একটা রেলিঙ ফেরীর ডেকটা গাড়ি, সাইকেলের জন্য। সাথের এইসব সেইসব রাখার ব্যবস্থা ডেকের ওপর তিন ফ্লোরের নীচতলায়। জিনিসগুলো রাখতে রাখতে ডেক দেখ...



এই রূপালী গিটার ফেলে...

আশি সাল। নিউইয়র্কের বিখ্যাত GuiterWorld চেইন মিউজিকের দোকানে বয়সে তরুন এক ছেলে ঘুরছে তার পছন্দের গীটারের জন্য। যেই দেশ থেকে সে এসেছে সে দেশে এরকম গিটারের দোকান তো দূরের কথা গিটার সামনা সামনি দেখেছে এমন মানুষই খুব কম। দোকানে সাজানো সারি সারি গিটার থেকে ছেলেটি সাহস করে একটি গিটার ধরল, কিছুক্ষন আনমনে বাজালও। বাজানো শেষে গিটারটা রেখে ছেলেটি শুকনো মুখে পা বাড়ালো দরজার দিকে।  ছেলেটির এই প্রথম নিউইয়র্ক আসা। এই গিটার কেনার মতো সামর্থ্য তার নেই। যে দলটির সাথে সে দেশ থেকে এসেছে সে দলেরও খুব কম মানুষকেই সে চেনে যে তাকে টাকাটা ধার দিতে পারবে। বাইরে পা বাড়াতেই দোকানের ভিতর থেকে কেউ একজন তাকে ডাক দিলো। একজন বৃদ্ধ কাউন্টার থেকে ডাকছেন। বৃদ্ধ ছেলেটিকে নিয়ে গেল দোকানের পিছনের দিকের কিছু দামী গিটারের মাঝে। বৃদ্ধ বলল, বাজাও। তোমার যেটা বাজাতে ইচ্ছা করে সেটা আমাকে তুমি বাজিয়ে শোনাও। অবাক ছেলেটি কোনদিনও হাতে পায়নি এতো ভালো গিটার। নিউইয়র্কের সেই ছোট্টো দোকানের কোনে হৃদয়ের সমস্ত উজার করে বাজিয়ে গেল ...



ফ্যোয়া একটি দ্বীপের নাম (প্রথম পর্ব)

জার্মানির মোট ষোলটা ফেডারেল স্টেট আছে। যেমন হামবুর্গ, বার্লিন, মিউনিখ। এখন হামবুর্গের পাশের ফেডারেল স্টেটের নাম রেখেছে শ্লেসভিক হলস্টাইন। ফ্যোয়া হচ্ছে  এই শ্লেসভিক হলস্টাইনের অন্তর্গত একটি নর্থ ফ্রিজিয়ান দ্বীপ।    সাদরি ভাই আর ডায়না আমাদের ফ্যামিলী ফ্রেন্ড এবং ফ্যোয়ায় বাঙ্গালীদের গোঁড়াপত্তন ইতিহাসের দুইজন মহান অংশীদার। শুধু বাঙালি না, হিসেবটা উপমহাদেশ ধরেই হবে। সে সময় বোধহয় তারা  ছাড়া আর একটি মাত্র দক্ষিণ এশীয় পরিবার ওখানে বাস করত। তাও ওদেরই আত্মীয়। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে গিয়ে চারে এসেছে। এবং এরা এখনো সবাই সবার আত্মীয়। গৃহী মানুষের যাযাবর জীবন  ভিক আউফ ফ্যোয়াতে মানুষ গরমের সময় সৈকতে পা ডোবাতে যায়। উত্তর সাগরের একাংশে  অবগাহনের জন্যেও যায়। শীতেও যে যায় না তা না। যেমন আমার ফ্যোয়ার সাথে প্রথম দেখা কড়া শীতের ভেতর। তীব্র লিকারের কড়া চায়ের চেয়ে বেশী কড়া শীত। এই শীতের বাতাসে এমন তেজ, সূর্যের দেখা পাওয়ার জন্য চোখে জ্বালা ধরে যায়। একটুখানি উষ্ণতার জন্য ইচ্ছেরা বেসামাল ছলকে ওঠে।  হিমযুগে পথের...



প্রাচীন মিসরে রূপচর্চা ও প্রসাধনী

নীলনদ আর পিরামিডের দেশ হিসেবে বিখ্যাত মিসর এক কথায় যেমন সমৃদ্ধ সভ্যতার পীঠস্থান, তেমনি এর সম্পর্কে অনেক বিষয় এখনো অজানা রয়ে গেছে আমাদের। বিশেষ করে মিসরের ইতিহাস বলতে আমরা যা পড়ি তার অধিকাংশই রাজনৈতিক ইতিহাস কিংবা প্রাচীন শিল্প সংস্কৃতির সাধারণ বিবরণ। প্রাচীন মিসরে উৎসব উদযাপনকে অনেক গুরুত্ব দেয়া হত। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং তাদের পুরোহিত রাজার নির্দেশে আয়োজিত নানা ধরণের রাজকীয় আয়োজন দুটি ক্ষেত্রেই সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ ছিল মানুষের। গণ জমায়েতের মত এমন সব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া মানুষগুলো যেমন তাদের পোশাক আশাক নিয়ে সচেতন ছিলেন, তেমনি তাদের সাজসজ্জার বিষয়গুলোও বেশ চোখে পড়ার মত। [১] প্রাচীন মিসরের যেসব সমাধি আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে সেখানে প্রাপ্ত নিদর্শন থেকে তখনকার মানুষের জীবন ধারা সম্পর্কে অনুমান করা যায়। তবে যেসব সুরক্ষিত সমাধি পাওয়া গেছে সেগুলো অপেক্ষাকৃত ধনী মানুষ এবং রাজ পরিবারের সদস্যদের। ফলে এই সব সমাধি থেকে প্রাপ্ত নিদর্শন দেখে হুটহাট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে মন্...