ইনসুলিন আবিষ্কারঃ চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নাটকীয় অধ্যায়


ধরুন আপনার ডায়বেটিস হয়েছে।
ডাক্তার আপনাকে পরামর্শ দিলেন যে প্রতি সপ্তাহে একটা করে গরুর অগ্ন্যাশয় কাচা চিবিয়ে খাবেন।
আপনি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলেন ডাক্তারের দিকে, ডাক্তারও আপনার দিকে তাকিয়ে রইলেন মহা বিরক্ত হয়ে। 
ডাক্তারের বিরক্তির কারণ মাত্রই আপনার প্রস্রাব চুমুক দিয়ে চেখে দেখে আপনার ডায়বেটিস শনাক্ত করতে হয়েছে তাকে!

দৃশ্যটা এখন কষ্টকল্পনা হলেও, এই মাত্র একশো বছর আগেও ১৯২১ সালের আগে দশাটা অনেকটা এরকমই ছিলো। তখনকার দিনে ডায়বেটিস রোগীরা এক কি দুই বছরের বেশি বাঁচতো না। মৃত্যুর হার ছিলো শতভাগ। কারণ এই রোগের কোনো প্রতিকার জানা ছিলো না কারো-ই। সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা ছিলো কঠিন ডায়েট: Minimal carbohydrate intake. হয়তো সারাদিনে মাত্র ৪৫০ কিলো ক্যালোরি। এটা যে কতো কম সেটা বোঝার জন্য উল্লেখ্য যে এক স্লাইস পিজ্জা বা দুটো চিকেন ফ্রাইতে এর চাইতে বেশি ক্যালরি থাকে।  এতে করে বাঁচার জন্য অতিরিক্ত কয়েক বছর পাওয়া গেলেও, শেষমেশ বাঁচতো না কেউই। অনেকেতো এই কঠিন ডায়েটের কারণেই Starvation-এ মারা পড়তো। হাসপাতাল ভরে থাকতো মৃত্যুপথযাত্রী ডায়বেটিস রোগী দিয়ে। 

এই দৃশ্য রাতারাতি বদলে দিলো যে আবিষ্কার, সেটা হলো ইনসুলিন।

সেই খ্রিস্টপূর্ব ৫৫২ সাল থেকে ডায়বেটিসের কথা জানতো মানুষ। কিন্তু এর সমাধান তো দূরে থাক কারণটাই জানতো না কেউ। কতোজন কতো জায়গায় চেষ্টা করে যাছিলেন। কিন্তু আসলে কেউ ধরতেই পারছিলেন না যে আসলে কোন জিনিসটা দায়ী ডায়বেটিসের জন্য।
১৮৮৯ সালে জার্মান গবেষক Oskar Minkowski আর Joseph von Mering দেখেন যে কুকুরের অগ্ন্যাশয় কেটে দিলে, সেটার ডায়বেটিসের লক্ষণ দেখা দেয়, এবং সেটা মারা যায় কয়েকদিন পরেই। এখান থেকেই ধারণা করা হয় যে অগ্ন্যাশয় বা pancreas-ই হলো সেই উৎস যেটা থেকে কোনো একটা বস্তু বের হয় যা শরীরে ডায়বেটিস হতে বাধা দেয়। 
পরবর্তীতে Eugine Opic- দেখান যে পুরো অগ্ন্যাশয় না বরং এর ভিতরকার Islets of Langerhans নামের একটা বিশেষ কোষগুচ্ছই এই জন্য দায়ী।
Opic দেখান যে অগ্ন্যাশয় নষ্ট হলেও যদি আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স ঠিক থাকে, তাহলে ডায়বেটিস হয় না, বরং উল্টো ক্ষেত্রে হয়।
যে জিনিসটা এই কাজ করে তার নাম দেওয়া হয় Internal substance. এবার সবাই মিলে শুরু করলেন এই জিনিসটা খোঁজা। কিন্তু কেউই সফল হচ্ছিলেন না।
এই আবিষ্কারের পরেই মূলত রোগীকে অগ্ন্যাশয় খাওয়ানোর ব্যাপারটা শুরু হয়। মাঝে মাঝে অগ্ন্যাশয় বেটেও খাওয়ানো হতো, বা রস বের করে সেই নির্যাস খাওয়া হতো।
কারো কারো ক্ষেত্রে কাজও হতো, কিন্তু সেই সাথে ভয়ানক সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতো তাতে: বমি, জ্বর, খিঁচুনি, পেট খারাপ সহ আরও নানান উপসর্গ।
অগ্ন্যাশয়ের রস বা নির্যাসের ইঞ্জেকশন ছিলো আরো ক্ষতিকর।
কেউ কেউ বলতে লাগলো যে এই হাইপোথিসিস সম্ভবত ভুল। তবে ১৯১০ সালে স্যার Edward Albert Sharpey দাবী করেন যে স্বভাবিক লোকের তুলনায় ডায়বেটিস রোগীর শরীরে শুধু একটা কেমিক্যালই নেই। 

এরপর যা হলো তা আসলে মিরাকুলাসই বলতে হবে।

১৯২০ সালের ৩০ অক্টোবর নিজের রাতে নিজের ঘরে পড়াশোনা করছিলেন University of Western Ontarioএর শিক্ষক Frederick Banting. পরের দিন ক্লাসে অগ্ন্যাশয়ের উপরে পড়াতে হবে তাকে। ডাক্তারি প্র্যাকটিসে তেমন সাফল্য না পাওয়ায় পেট চালাতে এখানে পার্ট টাইম কাজ করেন উনি। আগের নানান গবেষকদের আর্টিকেল পড়তে পড়তে Moses Barron-এর লেখা ‘The Relation of Islets of Langerhans to Diabetes’ নামের একটা আর্টিকেল ওনার চোখে পড়ে, যেখানে Pancreatic duct blockage-এর ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। মানে হলো অগ্ন্যাশয়ের রস আসে যে নালি দিয়ে সেই নালিকে আটকে দেওয়ার কৌশলের ব্যাপারে। লেখাটা ভাবনায় ফেলে দেয় Banting-কে, আর ভাবতে ভাবতেই একটা বুদ্ধি আসে ওনার মাথায়। ওনার মনে হয় যে এই বুদ্ধিটা ডায়বেটিসের চিকিৎসায় কাজে লাগবে।
Banting ধারণা করলেন যে অগ্ন্যাশয় থেকে আসা পাচক রস (Digestive juice) বা খাদ্য হজমকারি রসটা সম্ভবত আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স থেকে আসা রসকে (Internal secretion) নষ্ট করে দিচ্ছে।
উনি বুদ্ধি করলেন যে যদি Pancreatic duct-কে বন্ধ করে দেন, তাহলে অগ্ন্যাশয়ের বাকি সব অংশ শুকিয়ে যাবে, আর যে জিনিসটা থেকে যাবে, সেটা হলো আইলেটস অফ ল্যাঙ্গারহ্যান্স। আর সেখান থেকেই পাওয়া যাবে কাঙ্ক্ষিত Internal secretion.


এই ধারণাটা নিয়েই উনি হাজির হন নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান University Of Toronto তে, এবং সাহায্য চান J.J.R Macleod-এর কাছে। উনি ছিলেন একজন স্কটিশ ফিজিওলজিস্ট। ঐ সময়ের Leading expert in Diabetes.
Macleod সন্দিহান ছিলেন যে Banting-এর ধারণা আসলেই কাজ করবে কি না বা বুদ্ধিটা আসলেই ওনার কিনা। কিন্তু উনি তখন ছুটিতে যাচ্ছিলেন, আর ওনার ল্যাবটা ফাকাই পড়ে থাকতো। তাই সুযোগ দিলেন Banting-কে নিজের কাজের প্রমাণ দিতে, সেই সাথে সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দেন পোস্টগ্রাজুয়েট স্টুডেন্ট Charles Best-কে। কারণ Banting-এর গবেষণার ক্ষেত্রে দক্ষতা কম ছিলো, আর Best রক্ত আর প্রস্রাবে সুগারের পরিমাণ মাপতে পারতেন।

Macleod গরমের ছুটি কাটাতে চলে যান স্কটল্যান্ডে আর Banting এবং Best শুরু করেন কুকুরের উপর ওনাদের ধারণার পরীক্ষা নিরীক্ষা। দ্রুতই শেষ হয়ে আসে ওনাদের হাতে থাকা কুকুর, পরে রাস্তা থেকে ধরে ধরে আনা হতে থাকে, এভাবে প্রায় ৪০০-৫০০ কুকুরের জীবন উৎসর্গ হয় এই গবেষণায়।

গবেষণা শুরু হয় ১৯২১ সালের ১৭ মে, আর জুলাই মাসের শেষের দিকে অবশেষে তারা নালি আটকে দেওয়া একটা কুকুরের অগ্ন্যাশয় থেকে একটা নির্যাস আলাদা করতে সমর্থ হন, যেটা কিনা একটা ডায়াবেটিক কুকুরকে ইনজেক্ট করলে দেখা যায় যে কুকুরটার ডায়াবেটিস কমে যাচ্ছে।

গবেষণা শুরু হয় ১৯২১ সালের ১৭ মে, আর জুলাই মাসের শেষের দিকে অবশেষে তারা নালি আটকে দেওয়া একটা কুকুরের অগ্ন্যাশয় থেকে একটা নির্যাস আলাদা করতে সমর্থ হন, যেটা কিনা একটা ডায়াবেটিক কুকুরকে ইনজেক্ট করলে দেখা যায় যে কুকুরটার ডায়াবেটিস কমে যাচ্ছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কুকুরটা বেচে ছিলো প্রায় ৭০ দিন। নির্যাসটা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার পরেই মারা যায় কুকুরটা। তাদের অন্যান্য সন্দিহান সহকর্মীরা এই নির্যাসের নাম দেন thick brown muck. কিন্তু তখনো কেউ জানতো না যে আসলে যা আবিষ্কার হতে যাচ্ছে তা একসময় কতো মানুষের জীবন বাঁচাবে।


গবেষণার ফলাফল জানিয়ে Macleod-কে চিঠি লিখলেন Banting. কিন্তু ফিরে এসে Banting-এর কার্যকলাপে সন্তুষ্ট হতে পারলেন না উনি। Macleod বললেন যে, “নিজেকে সন্তুষ্ট করা সহজ, কিন্তু আগে কেউ ভাবেনি এমন কিছুর সুনিশ্চিত প্রমাণ করা খুবই কঠিন।”
Banting আর Best-এর গবেষণা ছিলো ভুলে ভরা, ওনারা যে কোনো negative result-কে বাদ দিয়ে যেতেন এবং স্পষ্টতই ফলাফলের ভুল প্রতিপাদন করছিলেন। Professor Macleod তাই ওনাদেরকে আর সহযোগিতা করতে চাচ্ছিলেন না, ফলে তাদের মধ্যে তিক্ততা তৈরি হয়। Banter এবং Best ঝগড়া করে ইউনিভার্সিটি ছেড়ে দেন। 

Macleod-এর সন্দেহের আর একটা কারণ হলো Banter এবং Best পূর্বসূরি বিজ্ঞানীদের তুলনায় খুব বেশি আগাতে পারেননি। তাদের প্রকাশিত পেপার-এ অনেক কিছু লেখা থাকলেও, তাদের নোটবুকেই লেখা ছিলো যে নির্যাসটা consistently কাজ করে না। 
কিন্তু ১৯২১ এর ডিসেম্বরে Banting এবং Best বাহ্যত এমন কোণঠাসা অবস্থায় চলে আসেন যে হার মেনে নিতে বাধ্য হন। উপায় না পেয়ে, আবার Macleod-এর কাছে গিয়ে সাহায্য চান। এবার Macleod-এর তত্ত্বাবধানে চলতে থাকে গবেষণা।
কুকুর থেকে খুব বেশি ইনসুলিন আহরণ সম্ভব না হওয়ায় ওনারা এরপর শুরু করেন গরু থেকে ইনসুলিন সংগ্রহ।
কিন্তু Banting সারাক্ষণ চিন্তায় থাকতেন যে Macleod বুঝি তার কৃতিত্বে ভাগ বসাচ্ছেন! কিন্তু এই ডায়বেটিসের উপরে Macleod-এর দক্ষতার কারণে কিছু বলতেও পারতেন না। যেহেতু মূল সমস্যা ছিলো নির্যাসটা সংগ্রহের পরে সেটাকে বিশুদ্ধকরণে, তাই তারা যোগাযোগ করেন James Collip-এর সাথে। Collip ছিলেন একজন বায়োকেমিস্ট। তিনিও যোগ দেন দলে। প্রথমে তাদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক থাকলেও সহসাই অবনতি ঘটে তাতে, কারণ Collip নিজে নিজেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন অনেকটা। Banter এবং Best-এর অপরিশুদ্ধ নির্যাসটা (Crude extract) নিয়ে Collip সেটাকে বিশুদ্ধ করার একটা উপায় বের করেন। বুদ্ধিটা হচ্ছে অগ্ন্যাশয়কে দেহ থেকে অপসারণের পরপরই ঠাণ্ডা করে ফেলতে হবে যাতে করে পাচক রসের কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পরিকল্পনা করা হয় জানুয়ারিতেই এই নির্যাসটা মানুষের উপর পরীক্ষা করার।

Banter চাচ্ছিলেন যে, যা কিছু হয়েছে সেটার পুরো কৃতিত্বটাই যেনো উনি পান, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তাই উনি চাপ দেন যেনো তার বের করা নির্যাসটাই যেনো প্রথম কারো উপরে প্রয়োগ করে দেখা হয়। 
১৯২২ সালের জানুয়ারির ১১ তারিখে Banter এবং Best-এর নির্যাসটা প্রথম প্রয়োগ করা হয়। লিওনার্ড থম্পসন নামের একটা ১৪ বছর বয়সী মুমূর্ষু বাচ্চাকে প্রথম দেওয়া হয় সেই ইঞ্জেকশন।
কিন্তু ভয়ানক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয় থম্পসনের। তাই পরে আর ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়নি। ডায়াবেটিস লেভেলও খুব একটা কমেছিলো না ওর। 
Collip পরের কয়েকদিন দিনরাত এক করে খেটে তার নিজের বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া আরও উন্নত করেন। ব্যাপারটা Banting-কে জানানোর পরে উনি পদ্ধতিটা জানতে চান, কিন্তু Collip সেটা জানাতে অস্বীকার করেন। Collip-এর কলার চেপে ধরেন Banting। Best এসে ঠেকান সেটা।
১২ দিন পর, ২৩ জানুয়ারি দেওয়া হয় পরের ইঞ্জেকশন। এবং এটা সফলতার সাথে ডায়বেটিসের সকল লক্ষণ কমিয়ে দেয় সেই সাথে এর দৃশ্যত কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ছিলো না। থম্পসনের গ্লুকোজ লেভেল 28.9 mmol/L থেকে নেমে আসে 6.7 mmol/L-এ। 
Collip-ই প্রথম তাই অগ্ন্যাশয়ের internal secretion এর mixture বানান যেটা Human Test এর সফল হয়।

যেসব বাচ্চা তখন Diabetic Keto Acidosis-এ (ডায়বেটিস অতিরিক্ত বেড়ে গেলে এই সমস্যাটা হয়) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনতো তাদেরকে রাখা হতো আলাদা একটা ward-এ। মাঝে মাঝে ৫০ জনেরও বেশি হয়ে যেতো রোগি। বেশিরভাগই থাকতো কোমায় বা অজ্ঞান অবস্থায়। পাশেই অপেক্ষা করতো কান্নারত বাবা মা বা আত্মীয় স্বজন।
থম্পসনের সফলতার পরে Banting, Best আর Collip  বেড থেকে বেডে গিয়ে নতুন করে বানানো নির্যাস ইঞ্জেকশন দিতে শুরু করেন। একে একে যখন তারা শেষ বাচ্চাটার কাছে পৌঁছান, তখন প্রথম ইনজেকশন দেওয়া বাচ্চাদের কয়েকজন কোমা থেকে জেগে ওঠে। আর কেঁদে ওঠে তাদের বাবা মা, এবার আনন্দে। এটা শুধু প্রতিষেধক ছিলো না, ছিলো পুরো যুগান্তকারী সাফল্য। ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়া ঘটনা।
এই দৃশ্যটা কল্পনার চোখে দেখলে দুনিয়ার তাবত সিনেমার গল্প হার মানাবে। এক মুহূর্ত আগে যেখানে মায়েরা বাচ্চাদের শীতল হাত ধরে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলেন, পরের মুহূর্তেই ডাক্তাররা বাচ্চাগুলোর হাতে জীবন ভরে দিচ্ছিলেন। এটা শুধু অনুভব করা যায়।

একে একে যখন তারা শেষ বাচ্চাটার কাছে পৌঁছান, তখন প্রথম ইনজেকশন দেওয়া বাচ্চাদের কয়েকজন কোমা থেকে জেগে ওঠে। আর কেঁদে ওঠে তাদের বাবা মা, এবার আনন্দে। এটা শুধু প্রতিষেধক ছিলো না, ছিলো পুরো যুগান্তকারী সাফল্য। ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়া ঘটনা।


কথা ছড়িয়ে পড়ে, এবং অসুস্থ বাচ্চাদের অভিভাবকরা হামলে পড়ে ওষুধের জন্য, কিন্তু এতো ওষুধ তো আর ছিলো না। 
এই সমস্যার সমাধান করতে এগিয়ে আসে Eli Lily Company. তাদের সকল উপায় উপকরণ ঢেলে দেয় এতে। প্রথমে এক বছর লেগে যায় সবচেয়ে সুবিধাজনক প্রক্রিয়া বের করতেই। ১৯২২এর গ্রীষ্মে Lily প্রথম potent insulin বাজারজাত করতে সমর্থ হয়।


১৯২২ এর এপ্রিল মাসে টরন্টোর দলটা ইনসুলিনের আবিষ্কার ও ব্যবহারের সাফল্য নিয়ে পেপার প্রকাশ করেন ‘The Effects Produced on Diabetic by Extracts of Pancreas’ শিরোনামে। এই পেপারেই তারা প্রথম ইনসুলিন শব্দটা ব্যবহার করেন। 

এই কৃতিত্বের জন্য ১৯২৩ সালে Banting এবং Macleod-কে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। Best এর জায়গায় Macleod নোবেল পাওয়ায় প্রচণ্ড ক্ষেপে যান Banting এবং নোবেল পুরস্কার নিতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু তার বন্ধুরা তাকে এই বলে রাজি করান যে প্রথম কানাডিয়ান হিসেবে পুরস্কারটা না নেওয়াটা তার জন্য বোকামি হবে। তিনিই চিকিৎসা বিজ্ঞানে সবচেয়ে কম বয়সী নোবেল বিজয়ী। পরে উনি পুরস্কারের টাকা ভাগ করে নেন Bestএর সাথে। Macleod-ও তার ভাগ দেন Collipকে।

Banting, Collip আর Best ওনাদের আবিস্কারের পেটেন্ট টরন্টো ইউনিভার্সিটির কাছে বিক্রি করে দেন প্রত্যেকে মাত্র ১ ডলারের বিনিময়ে। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে Banting তার বিখ্যাত উক্তিটা করেন: “Insulin belongs to the world, not to me.”

আমরা এমন সব মানুষের দিকে দৃষ্টি রাখি যাদেরকে আমরা ছাড়িয়ে যেতে পারি, আবার এমন কাউকে অনুসরণ করি যারা আমাদের পথ প্রদর্শক হতে পারেন। বাস্তবে ইনসুলিন আবিষ্কার তাই শুধু Banting, Best বা Macleod, Collip-এর রেষারেষি ঘটনা না। বাস্তবতা হলো ইনসুলিন ঐ ডায়াবেটিক রোগিগুলোকে কি করেছিলো সেটা। সেটা যতোই ভাবা যায়, এই মহত্তম আবিস্কারটা ততোই বড় হয়ে ধরা দেয়।

অতিরিক্ত তথ্যঃ
* গরু ও শুয়োরের অগ্ন্যাশয় থেকে আহরিত ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে এতে এলার্জি হতো অনেকেরই। ই কোলাই ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে সরাসরি মানুষের জিন থেকে ইনসুলিন তৈরি শুরু হয় ১৯৭৮ সালে।

* ইনসুলিন আবিষ্কার নিয়ে আরও মজার তথ্য পেতে পড়ুন Michael Bliss-এর লেখা The Discovery of Insulin.