শ্রীদেবীর বর্ণময় জীবন


মাত্র চার বছর বয়সে অভিনয় শুরু করা এই প্যান-ইন্ডিয়ান অভিনেত্রীর জনপ্রিয়তা ছিলো আকাশছোঁয়া। ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ পর্যন্ত ৫৫ বছরের জীবনে তিনি হিন্দী, তামিল, তেলেগু, মালায়াম ও কান্নাডা ফ্লিমে ছিলেন সর্বোচ্চ জনপ্রিয়দের একজন। প্রডিউসার হিসেবেও কাজ করেছেন।

শিশু শিল্পী শ্রীদেবী
চার বছর বয়সে তামিল, তেলেগু, মালায়াম ও কান্নাডা ফ্লিমে শিশু শিল্পী হিসেবে শুরু করে  ১৯৭৫ সালে  বলিউডে তার অভিষেক হয় জুলি (Julie) সিনেমার মাধ্যমে। প্রথম বড়দের চরিত্রে অভিনয় করেন মনড্রু মুডিচ (Moondru Mudich) নামের একটি  তামিল সিনেমায়, ১৯৭৬ সালে। তখন তার বয়স মাত্র ১৩ বছর। পরবর্তী কয়েক বছরের ভেতরে তামিল ও তেলেগু সিনেমায় নিজেকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যান এই অভিনেত্রী। বলিউডে মূল চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হন ১৯৭৮ সালে,  সলভা সাওয়ান (Solva Sawan) সিনেমার মাধ্যমে। ১৯৮৩ সালে হিম্মতওয়ালা (Himmatwala) সিনেমায় অভিনয় করে ব্যপক দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন। পরবর্তী কয়েক বছর তার অভিনয় করা প্রায় প্রতিটি ছবিই ব্যপক সমাদৃত হয়। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে যান এই শক্তিশালী অভিনেত্রী। ফ্লিমফেয়ারে (Filmfare Awards) তিনি দশবার মনোনীত হয়ে পাঁচবারই জিতে নেন পুরষ্কার। ১৯৯৭ সালের পর হঠাৎ করে অভিনয় থেকে সরে যান এই প্রচন্ড জনপ্রিয় ও আলোচিত অভিনেত্রী। ফিরেও আসেন; প্রায় ১৫ বছর পর, ইংলিশ ভিংলিশ (English Vinglish) নামের একটি মুভিতে। তবে ২০০৯ সালে সনি টিভি শো-তে তাকে দেখা যায়। ২০১৩ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী-তে (Padma Shri) ভুষিত করে। পদ্মশ্রী হচ্ছে সামরিক সম্মননাগুলোর বাইরে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ সম্মননা। শিল্পকলা, শিক্ষা, বাণিজ্য, সাহিত্য, বিজ্ঞান, খেলাধূলা, সমাজসেবা ও সরকারি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ভারত সরকার এই সম্মান প্রদান করে থাকে। তিনি এশিয়ান একাডেমী অব ফ্লিম এন্ড টেলিভিশনে বোর্ড অব ডিরেক্টরের সদস্য ছিলেন। ৯০-এর দশকে তিনি ছিলেন সিনেমা জগত থেকে সর্বোচ্চ আয় করা নায়িকা। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন চিত্র শিল্পীও ছিলেন। ২০১০ সালে তার আঁকা ছবি আন্তর্জাতিক নিলামে বিক্রি হয় যার পুরোটা অর্থ তিনি দান করে দেন।

হিন্দী সিনেমার নায়িকা হিসেবে বাংলাদেশে তিনি পরিচিত হয়ে থাকলেও মূলত তার জন্ম ভারতের তামিল নাড়ুর শিভাকাসীতে। তামিল বাবা ও তেলেগু মায়ের দুই কন্যা সন্তানের একজন তিনি। দু'জন সৎ ভাইও তার ছিলো। ১৯৮০ সালে তখনকার জনপ্রিয় বাঙালি অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর প্রেমে পড়েন এই নন্দিত শিল্পী। গোপনে বিয়েও করে ফেলেন। তবে সেই বিয়ে বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বনি কাপুর (Boney Kapoor) নামের এক ফ্লিম প্রডিউসরকে বিয়ে করেন। বনি কাপুর ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা অনীল কাপুর ও সঞ্জয় কাপুরের বড় ভাই। এই ঘরে তিনি দুজন কন্যা সন্তানের জননী হন যাদের নাম ঝানভি এবং খুশী (Jhanvi and Khushi)।   ২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী দুবাইতে এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে কার্ডিয়াক এ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নেন পৃথিবী থেকে। তার বর্তমান স্বামী বনি কাপুর এসময় সাথে ছিলেন। অভিনয় জীবনের মতই তার ব্যক্তিগত জীবনটাও ছিলো অন্যদের চেয়ে ভিন্নরকম।

অভিনয় থেকে সরে গেলেও এই অভিনেত্রী কখনো এই অঞ্চলের দর্শকদের মন থেকে হারিয়ে যাননি। তিনি চিরকাল স্বরণীয় থাকবেন তার দর্শক ও ভক্তদের মাঝে।