ফ্যোয়া একটি দ্বীপের নাম (দ্বিতীয় পর্ব)


ঠিক তিন মিনিট বাকি থাকতে ফেরীটা ধরতে পারলাম। আমরাই কিন্তু লাস্ট প্যাসেঞ্জার ছিলাম না। আমাদের পেছনে আরও দুইজন ছিল। প্রায় সাড়ে ছয়ফুট লম্বা একজন মাঝবয়সী বোহেমিয়ান ধরণের ভদ্রলোক আর তার প্রিয় গ্রেট ডেন প্রজাতির কুকুরটা। এই কুকুরের উচ্চতা আবার অবিস্মরণীয়। আমার কুকুরভীতি আছে। নেকড়ে ভীতিও আছে। উচ্চতার কারণেই সম্ভবত একে নেকড়ে নেকড়ে লাগছিল। দ্বিগুণ ভীতির কবলে পড়ে একটু কাঠ হয়েই লাইন ধরে এগুচ্ছিলাম। তবে ব্যবহারের দিক থেকে এ বেশ নির্লিপ্ত ধরণের। লাইনের আরেকটু সামনে মিস্টার হার্জের সেই স্নোয়ির মত দেখতে আরেকটি ছোট্ট দুষ্টু কুকুর সেই তখন থেকে কেঁউ কেঁউ করেই যাচ্ছিল- করেই যাচ্ছিল! দুই কুকুরের দেখা হলে কঠিন ঝগড়া হবার নিয়ম। কিন্তু গ্রেট ডেনটা পাল্টা খেঁকিয়ে না উঠে মন ডুবিয়ে চিন্তা ভাবনা করছে দেখে মুগ্ধ হলাম।

জলের উদ্বেগ, ছোলম নিয়ে কের্তোন, একটা রেলিঙ

ফেরীর ডেকটা গাড়ি, সাইকেলের জন্য। সাথের এইসব সেইসব রাখার ব্যবস্থা ডেকের ওপর তিন ফ্লোরের নীচতলায়। জিনিসগুলো রাখতে রাখতে ডেক দেখছিলাম। সেখানে কবিতায় পড়া ´জলের উদ্বেগ´ সত্যিই কিছু ছিল। এই উদ্বেগ বোধহয় সঙ্ক্রমিত হতে হয়। সে কারণে ছাদের ওপর বসার জায়গা দখল হয়ে গেল কিনা তাই মোটামুটি উদ্বিগ্ন- উৎকণ্ঠিত হয়েই সিঁড়ি বাইতে লাগলাম।   

 সিট খালি নাই। শীতক্লান্ত দ্বীপে নিমগ্ন হবার লোক আমরা ছাড়াও অনেক। তাছাড়া জীবন- জীবিকার প্রয়োজনে প্রচুর মানুষ এই রুটে প্রতিদিন যাতায়াত করে।  

চিন্তা করলাম এই পঁয়তাল্লিশ মিনিট রেলিঙ ধরে দাঁড়িয়ে গেলেই তো বেশী ভাল লাগার কথা। ছোটবেলায় নানুবাড়ি যেতাম লঞ্চে করে। লঞ্চের বারান্দায় আমাকে একা যেতে দেয়া হত না। রেলিঙের  চেয়ে আমার উচ্চতা অনেক কম থাকায় আশে পাশে যাবার অধিকারটুকুও কেউ দেয়নি।  তখন লঞ্চের ডেক থেকে কিন্নর কণ্ঠের “দুঃখ আমার...আমার” হয়ত বাজিয়ে দিল অচেনা কোন যাত্রী তার শখের ট্রাঞ্জিস্টরে। গানের কথার বিন্দু বিসর্গ অবশ্য কিছু বুঝেছিলাম। এই যেমন যে গাইছে তার মনে খুব দুঃখ। ওনার কাছে সাতনরী নামের বড়লোক কিসিমের হার আছে। পালঙ্কও আছে। পালঙ্ক মানে আমি জানতাম। রাজাদের পেট ভাসিয়ে ঘুমাইবার বিছানা। কিন্তু এত বড়লোক হয়েও তিনি এরকম মনের কষ্টে গান গাইছেন ঠিক কেন, বুঝিনি। তবে সঙ্গীতায়ন বেশ দুঃখ দুঃখ থাকায় রেলিঙের ওপারে ঢেউ এর অধিকার বঞ্চিত হয়েছি, তাই মান অভিমানবোধ আরও দূরে আকাশ ছাড়িয়েছিল।   

এই আমি রেলিঙ ছাড়িয়েছি সেই কবে! মৃদুমন্দ ঢেউ দেখতে এখন আর কোন বারণ নেই। এমন বড় হওয়ার জন্য কত আকুতি ছিল একটা সময়ে! আর এখন আকুতি এসে ঠেকেছে দু হাতে সময়গুলো আগলে রাখায়। থাকছেনা। আঙ্গুলের ফাঁকফোঁকর দিয়ে কেমন পালিয়ে যাচ্ছে।  

মোটা শাদা দস্তানা পরা হাতের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। মধ্যমা অনামিকাদের মধ্যে ব্যবধান তাই কম দেখাচ্ছে। আহা এভাবেও যদি চঞ্চল সময়গুলো হাটকে মাটকে আটকে রাখা যেত!

মেঘনা নদীর ওপর ঝড়ের কবলে পড়েছিল আমাদের লঞ্চটা। সেই ছোটবেলা। যাচ্ছিলাম নানুবাড়ি। সে কী দুলুনি তখন! নানু প্রচণ্ড শক্ত করে ধরে রেখেছিল আমাকে। এক একবার বিশাল একটা দোল আসছিল আর সবাই ত্রাহি পরিত্রাহি চিৎকার করছিল। তিমি মাছের পেটের ভেতর ইউনুস (আঃ) বিপদমুক্তির দোয়া করেছিলেন। সেই দোয়া আমি শিখেছিলাম। বিপন্ন মানুষের মুখে সম্মিলিত বিপদমুক্তির উচ্চারণ খুব ভয়ার্ত শোনায়। টানা বারান্দার মধ্যখানটায় দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল এত অদ্ভুত  নাগরদোলায় দুলতে দুলতে মানুষকে মরে যেতে হয়! 

দুলুনি, ভীতি এবং দোয়া দরুদের মাঝখানে হঠাৎ মৃদু ভৎসনাও কানে এলো “ডুইব্ব্যা মরনের কালেও মনু্গো ছোলোম লইয়া কের্তোন চলতেয়াছে।” দেখলাম আমার চেয়েও ছোট একটা ছেলে লাল ছাপার আঁচলটুকু ধরে ফিচফিচ করছে। ওর গেঞ্জি খামচে ধরে আছে একটি তাবিজ পরা- রগতোলা- শ্যামবর্ণা হাত। আরও ছোট ছেলেটিকে আঁকড়ে ছিল লাল কাঁচের চুড়িতে সেই রগতোলা শ্যামবর্ণা আরেকটি হাত। মেঝেময় ছড়িয়ে থাকা ফল পাকুড়ের টুকরোগুলো নিজের দখলে নিতে বাচ্চাটা প্রানান্ত চেষ্টা চালাচ্ছিল সেই অবেলায়। নানুর দিকে মুখ তুলে আমি জানতে চাইলাম, “আচ্ছা নানু! ছোলোম মানে কি?”     

- দোতালার কফি লাউঞ্জটা সুন্দর। লাটে খেতে হবে। তুমি যাবা?

হুট করে খ্যাপাটে মেঘনা থেকে তুলনামূলক শান্ত ওয়াডেনে হুমড়ি খেয়ে পড়ায় সিদ্ধান্ত জানাতে একটু সময় নিলাম। দুপুর গড়িয়ে বিকেল। ধূসর, খুব ধূসর সবকিছু। পানির এই খেলাটা আমার ভাল লাগেনা। এই যে আরেকজনের আনন্দে আনন্দ দেখিয়ে একেক সময় কী উচ্ছল নীলের ভেতর বিলীন হয়! এখন আবার জবুথুবু কুয়াশার সাথে একাত্ম হয়েছে। পানির রঙ তাই ফ্যাকাশে দেখায়। কোথেকে আবার ঝিরঝিরে বরফের বৃষ্টি নেমে রঙ দিয়েছে আরও এক পোঁচ ঘোলা করে। তবু এই খেলা আমি মন দিয়ে দেখি। লাটে মাকিয়াটোর নির্যাস নিতে নিতে জানালার কাঁচে একটি শীতগ্রস্ত সমুদ্র দেখার জন্য দোতালায় নামলাম। পড়ে থাকলো মেঘনা নদীর ভয়দোলনা, বরফের হালকা ছাট আর একটা বিষণ্ণ রেলিঙ; ঠিক অন্য কারো অপেক্ষায়। 

একটুখানি ইতিবৃত্ত

জানালা দিয়ে দেখছিলাম দূরের দ্বীপটা সচল হয়ে উঠেছে। একটু একটু করে যেন মানুষের ঘরবাড়ি, সমুদ্রের সাঁকো নিয়ে এগুচ্ছে আমাদের বরণ করে নেয়ার জন্য। ফেরী ঘাটে নামার সময় করিডোরের স্বচ্ছ দেয়ালের ওপাশটা খুব শুন্য ছিল। মনে হচ্ছিল গাঙচিলের দল সমুদ্রকে ঘিরে উঁচু গলায় কথা বললে ভারি মানাতো। কল্পনায় ওদের কথোপকথন শুনতে শুনতে খেয়াল করলাম আবার আমার নাম ধরে ডাকছে কেউ। এবার একটা মেয়ে। হ্যাঁ; ডায়না দূরের দেয়ালের সীমান্তে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছিল। 

Nordsee-Insel Föhr

বিকেলের দিকে কি ভেবে হালকা রোদ উঠল। দিবানিদ্রা ভেঙ্গে রোদ আড়মোড়া ভাঙ্গছে একটু একটু। তাতে লাভ যে একেবারে নেই তা না। ফ্যোয়ার সাথে পরিচয়ের আবহ তখন মিষ্টি রোদ্দুর। ফ্রিজিয়ান আদলের ছোট্ট বাসগুলো কেমন স্বপ্ন স্বপ্ন। যখন ভাবতে হয়, তখন পৃথিবীর ওপারে শান্তিতে বসবাসের জন্য ভাবনায় জড়োয়া গয়নার নকশায় মোড়া প্রাসাদ আনতে আমার ভাল লাগেনা। বরং সেখানে এমনিতেই এরকম ছোট্ট কুটির ধরণের বাসার বারান্দা আসে; বারান্দায় রোদের কারুকাজ আসে। 

 সাদরি ভাই- ডায়নাদের বাসা পর্যন্ত যেতে দশ মিনিটেরও কম সময় লাগবে। পথটুকু জুড়ে রয়েছে এমন একটা ভিন্ন অনুভূতি যেটার অর্থ বুঝতে চাইলে হয়ত পানির বুকে জেগে ওঠা দ্বীপেই আসতে হয়। সমুদ্রের আশকারায় প্রবল হওয়া এই ভূমির স্বাতন্ত্রবোধের স্পর্শ খুঁজে পাচ্ছিলাম তার নিজেকে সাজিয়ে তোলার বিভিন্ন পর্যায়ে।

ফ্রিজিয়ানরা মূলত একটা এথনিক গ্রুপ। জার্মানির উত্তরাঞ্চলে এদের দেখা দেখা যায়। নেদারল্যান্ডের ফ্রিজিয়া প্রদেশ থেকে এসেছে বলে এরা ফ্রিজিয়ান। জার্মানির একদম উত্তরের সমুদ্রসংলগ্ন  এলাকাগুলোর সমন্বিত নাম নর্থফ্রিজল্যান্ড। য্যুল্ট, আমরুম, ফ্যোয়া, পেলভর্ম, নর্ডস্ট্রান্ড দ্বীপ এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দশটি দ্বীপ মিলে গঠিত হালিগেন নর্থফ্রিজল্যান্ডের আওতাভুক্ত। আবার দ্বীপ না হয়েও উপকূলবর্তী শহর দাগেব্যুল, নিব্যুলও তাই। তো সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে জার্মানি যখন ছিল প্রুশিয়ান সাম্রাজ্যের অংশ, তখন এই নর্থফ্রিজল্যান্ডগুলোতে ফ্রিজিয়ানদের গোঁড়াপত্তন হয়েছে বলে প্রত্নতাত্তিকেরা মনে করেন। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান সাগরের ত্রাস ভাইকিংরাও এইভূমে পদধূলি দিয়েছিল একদা। ভাইকিংদের গল্প না হয় আরেকদিন বলব।

আদি ফ্রিজিয়ান পরিবার

এই দশ মিনিটেই কিন্তু দ্বীপের দেখার মত জিনিসপাতির এক ঝলক দেখে ফেললাম প্রায় অর্ধেকটা।  দ্বীপই হল সাড়ে সাত মাইল লম্বা আর চার মাইলের কিছু বেশী চওড়া। ফ্রিজিয়ান ঐতিহ্যের একটা প্রাথমিক ধারনাও পেয়ে গেলাম পথে দেখা টুকটাক দোকান, থ্যাচড ছাদের বসতবাড়ি, অষ্টদশ এবং ঊনবিংশ সময়ের ডাচদের আদলে বানানো উইন্ডমিল, একটা ক্যাথেড্রাল, দুইটা  বিরাট দাঁতের পেছনে দাঁড়ানো জাদুঘর থেকে। দাঁত দুটো ধারণা করছিলাম তিমি মাছের। এত বড় বড় দাঁত এই মর্ত্যের বুকে আগে কখনো দেখিনি। 

তবে কোন কারণে লোকজন দেখিনি তেমন। পুরো দ্বীপে সাড়ে আট হাজার মানুষের বাস। বন্দরেই যা কিছু ভিড় ছিল। আস্তে আস্তে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে তাই এগুতে এগুতে সব মিলিয়ে দশজনও দেখতে পেলাম না। আক্ষরিক অর্থে এই দ্বীপকে উত্তরের নিঝুম দ্বীপ বললে ক্ষতি কি? অসম্ভব নির্জন অথচ প্রাণহীন না। জীবনের ছাপ আছে সবখানে কিন্তু সবাই নিজেকে একটু গুটিয়ে রাখতেই পছন্দ করছে। দূর থেকে অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে। বলছে যেন,“আমি আছি; অন্তরালেই আছি। কোথাও হারিয়ে যাইনি।”    
 ডায়নার বেড়ে ওঠার অনেকটা সময়জুড়ে এই দ্বীপ। সুতরাং তাকে দ্বীপকন্যা বলাই যায়। আমার অর্ধাঙ্গের সংগ্রামমুখর প্রবাসী ছাত্রজীবনের দোসর ছিল ভাইয়া। দ্বীপকন্যার সাথে বিবাহের পর এখন এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা।   
লাল ইটের বাড়িটার দোতলায় ওদের সাথে ডায়নার ছোট ভাই ওসমানীও থাকে। সেও এখানেই বড় হয়েছে। তারা তিনজন মিলে অপূর্ব যত্নে গুছিয়েছে ছোট্ট সংসার। আমরা করিডোর পার হতেই দেখি ওসমানী টেবিলের পেছনে বিপুল আয়োজন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাসায় আসতে আসতে জেনেছিলাম দেশী ঘরানার মাছ বা বিধিসম্মত গোশত কেনার জন্য ওরা সাগর পাড়ি দিয়ে তারপর এতটা ঘণ্টা ড্রাইভ করে হামবুর্গ যায় কয়েক মাস পর পর। আশঙ্কা হচ্ছিল, এরকম কষ্টের সংগ্রহের একটা বড় অংশ  হামবুর্গবাসী হয়ে আমরাই সব খেয়ে ফেলি কিনা। অস্বস্তিতে পড়ে যাওয়ায় এই নিয়ে হালকা ঝগড়া করতে হয়েছে। দুই ভাইবোনের ভেতর ডায়নার বাংলা ওসমানীর চেয়ে ভাল। ওরা স্ট্যান্ডার্ড জার্মানে স্বাচ্ছন্দ্য বেশী। নর্থ ফ্রিজিয়ান ভাষাও কিছু জানে। সে জন্য মাঝেমাঝে ওদের একটু ভিন্ন  ধরণের ডায়ালেক্টমণ্ডিত যুক্তিখণ্ডন পর্ব বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে।  

ডায়নার বেড়ে ওঠার অনেকটা সময়জুড়ে এই দ্বীপ। সুতরাং তাকে দ্বীপকন্যা বলাই যায়। আমার অর্ধাঙ্গের সংগ্রামমুখর প্রবাসী ছাত্রজীবনের দোসর ছিল ভাইয়া। দ্বীপকন্যার সাথে বিবাহের পর এখন এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা।
শীতের কিছু ব্যপার আমার কাছে অনন্য মনে হয়। যেমন এইসব বরফের আলোয়ান গায়ে দেয়া- গোমড়া মুখো দিনের শেষে যখন সন্ধ্যা নামে, বাতাসে নাক ডুবালে অপার্থিব একটা ঘ্রাণ পাওয়া যায়। এই ঘ্রাণ শুধু শীতের শরীরেই আছে, আর কারো নেই। এশার পর এমনিতেই খুব পবিত্র মনে হয় সবকিছু। ঘরটা একদম অন্ধকার করে জানালা দিলাম খুলে। পরিষ্কার শাদা রঙের কার্পেট বিছানো শহরটায় ছড়িয়ে আছে বিন্দু বিন্দু আলো। গাছেদের পাতার দরজা শীতের অবকাশে রুদ্ধ ছিলনা সে কারণে ছড়ানো ছিটানো দেখার বিষয়গুলো লুকিয়ে থাকছেনা তেমন।  গ্রীষ্মে হয়ত পাতাদের অতন্দ্র প্রহরায় এতটা প্রকাশ পেতনা। খেয়াল করে দেখলে বোঝা যায় ফ্রিজিয়ান বাড়িগুলোর বেশীরভাগই নিপাট অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। কেউ থাকেনা ওখানে। 
চায়ের পেয়ালা জানালার খোলা কার্নিশে রাখতে রাখতে ডায়না জানালো যে বাড়িগুলোর মালিক সাগরের ওপারের নগরীতে চলে গিয়েছে সারা জীবনের জন্য। এখন শৈশবের ডলস হাউজের মত অদ্ভুত সুন্দর বাসাগুলোর মূল কাজ পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করা। বাড়িওয়ালা হয়ত বছরে এক দুইবার এসে দেখে-শুনে যায়। 


বন্দরের কাছে নতুন কিছু অতিথিশালা গড়ে তোলা হচ্ছে। ডলস হাউজের মালিকেরা এটা পছন্দ করছেনা। পর্যটকেরা যদি সব অতিথিশালার আতিথ্য গ্রহণ করে তাহলে এই বাড়িগুলোর কি হবে?    
রাত বেশী হয়নি। মাত্র আটটা বেজেছে। বিন্দু আলোগুলো নিভতে নিভতে প্রায় শেষের দিকে। তবু এত স্পষ্ট সব কিছু! সেটা হয়ত অন্ধকারে অভ্যস্ততায় অথবা তুষারের প্রশ্রয়ে। নিশ্চিত নই।


পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকুন... আপডেট পেতে লাইক দিন GleeEra-র ফেসবুক পেজে