মরুভূমিতে টিকে থাকার লড়াই


মরুভূমি অথবা শুষ্ক, অনুর্বর অঞ্চলে টিকে থাকার জন্য সেখানকার পরিবেশকে বুঝতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মূলত যেকোন পরিবেশ বুঝতে পারলে সেখানে টিকে থাকার জন্য, মানিয়ে নেওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে তোলা সম্ভব ও সহজ হয়। তাই মরুভূমিতে টিকে থাকার জন্য প্রথমত মরূভূমি সম্পর্কে আপনার পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা জরুরী। তাহলেই আপনি ঠিক করতে পারবেন সেখানে টিকে থাকার ( Survival) জন্য আপনার কী জিনিস প্রয়োজন হতে পারে এবং কোন ধরনের কৌশল আপনার অবলম্বন করা উচিত। আর এই সার্ভাইভাল সেই নির্দিষ্ট এলাকার উপর আপনার ধারনা, সেখানকার জলবায়ুর মৌলিক উপাদানসমূহর ব্যাপারে বাস্তব জ্ঞানের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। এবং সেগুলোর সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আপনার ইচ্ছাশক্তিও বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে এবং টিকে থাকার অন্যতম অনুপ্রেরণা।

মরু অঞ্চলের বৈচিত্র্যতা

মরুভূমি সম্পর্কে জানার পূর্বশর্ত হলো, প্রাথমিক ভৌগলিক জ্ঞান রাখা। অনুর্বর এলাকাতে ভূখন্ডের গঠন, বিন্যাস ও প্রকারভেদ ভিন্ন ভিন্ন। তারমধ্যে মৌলিক পাঁচটি হলো-

  • পার্বত্য ভূখন্ড
  • পাহাড়ী মালভূমি
  • বালিয়াড়ি
  • লবণাক্ত জলাভূমি
  • বিদীর্ণ ভূখন্ড

আর এইসব মরুঅঞ্চলে চলাফেরা কঠিন। টিকে থাকা কষ্টকর। মরুভূমিতে আসেপাশের পরিবেশ/ল্যান্ডমার্ক দেখে পথ চিনে রাখা কঠিন, মাঝে মাঝে অসম্ভবও। আবহাওয়া, ক্ষতিকর প্রাণী ও যুদ্ধাবস্থায় শত্রুর দৃষ্টি থেকে লুকানো কঠিন। মরু অঞ্চলের ভূখন্ডগুলো বিভিন্নরকম হওয়াতে একেক ভূখন্ডে যেন ভিন্ন ভিন্ন যুদ্ধ ক্ষেত্র। টিকে থাকার যুদ্ধে অথবা মানুষের যুদ্ধে ওখানে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম ও কৌশলই আপনাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

পার্বত্য মরুভূমি (Mountainous Desert)

শুষ্ক, সমান অববাহিকায় বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়ানো ছিটানো ঊষর পর্বত বা পাহাড়ের সমন্বয়ে গঠিত পার্বত্য মরুভূমি। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ধীরে ধীরে আবার কোথাও হঠাৎ যেনো হাজার হাজার মিটার উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। অধিকাংশ সময়ই এই উঁচুভূমি গুলোতে ভারী বর্ষন হয়ে প্রবল স্রোতে তা নিচে নেমে আসে। এই বন্যার পানি গিরিখাদগুলোকে ক্ষয় করে ফেলে এবং অববাহিকার কিনারায় প্রচুর বালি ও  কাকর জমা  করে। পানি আবার বাষ্পীভূত হয়ে জমিকে আগের মতোই অনুর্বর করে রেখে যায়। কিন্তু যদি বাষ্পীভূবনের হার থেকেও বেশি পানি অববাহিকায় প্রবেশ করে সেখানে অগভীর লেকের সৃষ্টি  হতে পারে। উটাহের গ্রীন সল্ট লেক তেমনই একটি। আর এইসব লেকের পানি অধিকাংশই লবণাক্ত হয়।

পাহাড়ি মালভূমি/অধিত্যকার মরুভূমি (ROCKY PLATEAU DESERTS)

মালভূমির মরুভূমিতে  বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ভাঙ্গা, কঠিন পাথরের সমতল্ভূমিতে অপেক্ষাকৃতভাবে আপনি কিছুটা স্বস্তি পাবেন। সেখানে খাড়া দেয়াল ঘেরা ক্ষয়ে যাওয়া উপত্যকা পেতে পারেন যা কিনা মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াডিস এবং আরোইও বা ক্যানিয়ন নামে আমেরিকা ও মেক্সিকোতে পরিচিত। যদিও এগুলার সমান পাদদেশ দূরথেকে বৈঠক সভার মতো আকর্ষনীয় মনে হতে পারে আপনার কাছে, বৃষ্টিপাতের পরবর্তী বন্যার কারনে তা মারাত্নক বিপদজনক।

বালিয়াড়ি মরুভূমি (SANDY OR DUNE DESERTS)

নুড়িপাথর, বালুতে ঢাকা বিশাল এলাকা জুড়ে থাকে বালিয়াড়ির মরুভূমি। যদিও এটাকে সমতল মরুভূমি বলা হয়, কিছু কিছু এলাকাতে প্রায় হাজার ফিটের বেশি উচু ও প্রায় ১৬ থেকে ২৪ কিলোমিটারের দীর্ঘ বালির পাহাড় থাকে। এইসব ভূখন্ডে বায়ুর অনূকুলে অথবা প্রতিকূলে পাহাড়ের ঢাল এবং বালির গঠন বিন্যাসের উপর আপনার চলাফেরার সুবিধা অসুবিধা নির্ভর করে। কিছুকিছু জায়গায় ২মিটার বা তার বেশি উচ্চতার ঝোপঝাড়ের দেখা পেতে পারেন আবার কিছু এলাকা বৃক্ষশূন্য। দক্ষিন আফ্রিকার কালাহারি মরুভূমি, সাহারার কিনারা, নিউ মেক্সিকো ও ক্যালিফোর্নিয়ার এলাকায় এই ধরনের মরূভূমি আছে। 

লবণাক্ত জলাভূমি (SALT MARSHES)

লবণাক্ত জলাশয়গুলোর দেখা মিলবে পতিত সমতল ও জনমানবশূন্য এলাকাগুলোতে। ঘাসের ঝোপ ছাড়া এতে অন্য কোন উদ্ভিদ সাধারণত জন্মায় না। মূলত শুস্ক ভূমি হতে বৃষ্টির পানি এসব জায়গায় গিয়ে জমা হয় এবং ক্রমাগত বাস্পীভূত হতে থাকে। বাস্পীভূত হওয়ার সময় শুস্ক ভূমি থেকে বয়ে আনার ক্ষারীয় লবনগুলো নিচে পড়ে থাকে। এভাবে লবনের পরিমান বাড়তে বাড়তে ওখানের পানিতে লবনের ঘনত্ব এতটাই বেড়ে যায় যে এগুলো আর পানযোগ্য থাকে না। এসব জলাশয়ে ২ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার (১ থেকে ১২ ইঞ্চি) পর্যন্ত লবনের স্তুপ জমে থাকতে দেখা যায়। 

শুস্ক ভূমিতে শত কিলোমিটার বিস্তৃত এরকম জলাশয়ের দেখা মেলে। এসব জায়গা নানা ধরনের বিষাক্ত পোকামাকড়ের বাস। তাই এসব জায়গা এড়িয়ে চলাই ভালো। এর পানি আপনার জুতা, পোশাক ও চামড়ার জন্য ক্ষতিকর। ইরাক-ইরানের সীমান্তবর্তী শ্যাট-আল-আরব (Shatt al Arab) জলাভূমি এধরনের লবনাক্ত ভূমির উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

বিদীর্ণ ভূখণ্ড (BROKEN TERRAIN)

সব অনুর্বর অঞ্চল গুলোতেই আপনি এমন কিছু এলাকা পাবেন যেখানে মাটি ফেটে চৌচির বির্দীণ হয়ে আছে। ঝড় বৃষ্টি এসব অঞ্চলের নরম বালুকা বিদীর্ণ করে গিরিখাত  তৈরি করে। এই সব গিরিখাত  তিন মিটার প্রস্থ এবং দুইমিটার গভীরতা থেকে হাজার হাজার মিটার পর্যন্ত প্রস্থ ও গভীর হয়। এগুলার গতিপথ প্রস্থ ও গভীরতা অনুযায়ী পাল্টে যায় এবং কোথাও কোথাও গোলকধাঁধার মতো পথ  সৃষ্টি করে। তবে এইসব গিরিখাত গুলোকে আত্নরক্ষার প্রয়োজনে ও লুকিয়ে থাকার ক্ষেত্রে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। তা সত্ত্বেও, যতটা সম্ভব চেস্টা করবেন এসব অঞ্চল এড়িয়ে যাওয়ার কেননা টিকে থাকার লড়াই এখানে নির্মম ও দুঃসাধ্য।

পারিপার্শ্বিক বিষয়সমূহ

মরু প্রান্তরে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা ও শত্রু থেকে আত্নক্ষার লড়াইয়ে আপনার বেঁচে থাকা নির্ভর করে সেই পরিবেশ সম্পর্কে আপনার জ্ঞান এবং লড়াইয়ে আপনার প্রস্তুতি কতটুকু। তার জন্য আপনার কী জিনিস প্রয়োজন হতে পারে, কোন ধরনের কৌশল আপনি অবলম্বন করবেন এবং আপনার উপর ও আপনার কৌশলের উপর সেই পরিবেশের প্রভাব কতটুকু, সেটা আগে নিশ্চিত করুন।
যেকোন মরুপরিবেশের স্বাভাবিক কিছু ব্যাপার হলো-

  • নিম্ন বৃষ্টিপাত
  • তীব্র সূর্যালোক ও গরম
  • ঘনঘন তাপমাত্রার উঠানামা
  • খুব কম সংখ্যক উদ্ভিদের উপস্থিতি
  • ভূপৃষ্টে বিভিন্ন খনিজ উপাদানের উপস্থিতি
  • বালিঝড়
  • মরীচিকা

নিম্ন বৃষ্টিপাত

আপনি হয়ত শুনেও থাকবেন ঊষর অঞ্চলে নিম্ন বৃষ্টিপাত হয়। কিছু কিছু মরু প্রান্তরে বছরে দশ সেন্টিমিটারের ও কম বৃষ্টিপাত হয় এবং এই বৃষ্টি খুব অল্প সময়ের জন্য প্রবল ভাবে  হয় যেটা আবার দ্রুত ভূপৃষ্টেও মিশে যায়। তীব্র মরু তাপমাত্রায় আপনি দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া থাকতে পারবেন না। এই পরিবেশে টিকে থাকার জন্য তাই প্রথমে আপনাকে দেখে নিতে হবে কি পরিমান পানি আপনার কাছে আছে এবং পানি পাওয়ার বাকি উৎস কি হতে পারে, কোথায় পেতে পারেন।

তীব্র সূর্যালোক ও গরম

স্বাভাবিকভাবে এইসব অঞ্চলের তাপমাত্রা উত্তপ্ত থাকে। বায়ুর উষ্ণতা দিনে ৬০ডিগ্রি সেলসিয়াস ( ১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বাড়তে পারে। সরাসরি সূর্যালোক, বালি বোঝাই গরম বায়ুপ্রবাহ, বালি থেকে প্রতিফলিত সূর্যতাপ এবং বালি ও পাথরের সংস্পর্শ থেকে সঞ্চালিত তাপমাত্রা বায়ুতে তাপমাত্রার লেভেল বাড়িয়ে দেয়।
মরুবালি ও পাথরের তাপমাত্রা ১৬ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠানামা করে যাকিনা সেখানকার বায়ুর তাপমাত্রা থেকেও বেশি। যেমন ধরুন, বায়ুর তাপ সেখানে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে, বালির তাপ ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও পৌছে যেতে পারে।
তাপমাত্রার এই তীব্রতা স্বাভাবিকভাবে শরীরে পানির চাহিদাকে বাড়িয়ে তোলে। তাই শরীরে শক্তি ও পানি জমা রাখতে এরকম আশ্রয়ের খুঁজুন যেখানে তুলনামুলক ভাবে তাপমাত্রার তীব্রতা থেকে আপনি নিজেকে কিছুটা আড়ালে রাখতে পারবেন। সবচেয়ে ভাল হবে যদি ভ্রমনের কাজটি রাতে করেন, সেটা পানির চাহিদাকে কমিয়ে দেওয়ার পাশে গরম থেকেও অনেকটা স্বস্তি দিবে। 
রেডিও অথবা অন্য অন্য সংবেদনশীল যা যা সরঞ্জামাদি থাকবে, তীব্র সূর্যালোকের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখুন নয়তো সেগুলো ঠিক মতো কাজ করবে না অথবা অকার্যকরী হয়ে যাবে।

তাপমাত্রার উঠানামা

দিনে যেখানে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ( ১৩০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত উঠতে পারে এবং রাতে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত নেমে যায়। রাতের তাপমাত্রা খুব দ্রুত নেমে যায়। উষ্ণ কাপড় ছাড়া এমনজায়গায় রাত কাটানো বেশ কষ্টদায়ক। তবে কাজ ও ভ্রমনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় রাত। কিন্তু আপনি যদি রাতে বিশ্রাম  করে কাটিয়ে দিতে চান, উলের স্যুয়েটার, লম্বা পাজামা ও উলের টুপির  সংগ্রহে রাখার চেস্টা করুন। 

উদ্ভিদের স্বল্পতা

বিক্ষিপ্তভাবে স্বল্প সংখ্যক গাছপালা, ঝোপঝাড় আপনি মরুঅঞ্চলে খুব অল্প পরিমানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখবেন। এজন্য আশ্রয় খুঁজে পাওয়া ও শত্রু থেকে ছদ্মবেশে  লুকিয়ে থাকা খুব কঠিন। দিনের আলোতে মাইলের পর মাইল যেখানে দৃশ্যমান, সেখানে আপনি খুব সহজেই প্রতিপক্ষের টার্গেটএ পরে যেতে পারেন।
আপনাকে যদি শত্রু এলাকার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য কার্যকরি কিছু উপায় আপনাকে অবলম্বন করতে হবে। যেমন-
ঘন ঝোপঝাড় বা গাছপালায় ঢাকা শুষ্ক নালাকে আশ্রয়  বা শত্রুর চোখ থেকে  আত্নগোপনের জন্য বেছে নিন
চলাফেরা/ নড়াচড়ার জন্য গাছপালা,পাথর ও বিভিন্ন বস্তুর ছায়া ব্যবহার করুন। এসব ছায়া জায়গায় খোলা মাঠ ও বায়ু থেকে তাপমাত্রা তুলনামূলক কম( ১১ থেকে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৫২ থেকে ৬৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট)।
সূর্যের আলো প্রতিফলিত হয়ে  শত্রু চোখে যাতে না পড়ে ফিরে এজন্য চকচকে কোন বস্তু থাকলে তা ঢেকে রাখুন।
নিরাপত্তার খাতিরে শত্রু এলাকায় চলাফেরার আগে যতটা সম্ভব চারপাশ পর্যবেক্ষন করে এলাকা সম্পর্কে একটা মৌলিক ধারনা  নিয়ে রাখুন। কোন জায়গাটা আপনি বিপদে কাজে লাগাতে পারবেন, আত্নগোপন করতে পারবেন অথবা প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে তার জন্য যতটা সম্ভব দূরুত্বের হিসাব বুঝতে হবে। কিন্তু এইসব বিস্তীর্ণ মরু অঞ্চলের বড় একটি সমস্যাই হলো দুরুত্ব বোঝা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যা আপনার কাছে এক কিলোমিটার দূরের মনে হচ্ছে ওটা বাস্তবিক অর্থে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

খনিজের উপস্থিতি

প্রায় সব ঊষর এলাকাগুলোতে ভূপৃষ্ঠে বিভিন্ন ধরনের খনিজ উপাদান ( যেমনঃ বোরাক্স, সল্ট, আলকালি, লাইম) মিশে থাকে। আর কোন বস্তু যখন এই খনিজ মিশ্রিত মাটির সংস্পর্শে আসে, তা দ্রুত ক্ষয়ে যায়। পানি ও পানের অযোগ্য এখানে। আর এই পানিতে কাপড় ধৌত করলে সেটা স্কিন র‍্যাশের কারন হতে পারে। উটাহর গ্রেট সল্ট লেক এরকমই এক লেক যেখানে মাটি ও পানি দুটাতেই বিভিন্ন খনিজের উপস্থিতি বিদ্যমান। এসব এলাকায় উদ্ভিদও জন্মে না অথবা জন্মালেও খুব কম পরিমানে। চেস্টা করবেন এসব অঞ্চলগুলো এড়িয়ে যাওয়ার।

বালিঝড়

মরুর আরেকটি বড় বিপদ হলো বালি ঝড়। হঠাৎ এই ঝড় বইতে শুরু করে। ইরান ও আফগানিস্তানে Seistan এ টানা ১২০ দিন পর্যন্তও অবিরত মরুপ্রবাহ বইতে থাকে।
মরুঝড়ের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো বালির ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া। তাই যতদ্রুত সম্ভব  ঝড়ের সময়  নিরাপদ কোথাও আশ্রয় নিয়ে চোখে গগলস পড়ে, মুখ ও নাক কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন। আর কোন প্রাকৃতিক আশ্রয় খুঁজে না পেলে ঝড়ের বাইরে খোলা জায়গায় নিজের পথের চিহ্ন রেখে শুয়ে পড়ুন।
ধুলা ও প্রবাহমান বালির বাতাস রেডিওবার্তা প্রেরন বাধাগ্রস্ত করে। তাই বার্তা প্রেরন সম্ভব না হলে অন্য অন্য উপায়গুলো যেমন পাইরোটেকনিক ( আতশবাজি পুড়িয়ে বার্তা দেওয়া), সিগনাল মিরর ( আয়নার মাধ্যেম সূর্যের আলোকে কোন কিছুর উপর প্রতিফলিত করে বার্তা দেওয়া) বা মার্কার প্যানেল ( রঙ্গিন কাপড়ের টুকরো যা কিনা ব্যাকপ্যাক, ট্যাঙ্ক এগুলার সাথে লাগানো থাকে এবং যা অনেক দূর থেকেও দেখা যায় ) কাজে লাগান।

মরীচীকা

বালুকাময় অথবা পাথুরে ভুপৃষ্ট থেকে উত্তপ্ত বায়ুর  মধ্যে দিয়ে আলোর প্রতিসরণের ফলে চোখে মরীচীকানামক দৃষ্টিবিভ্রম ঘটে। মরূভূমির অভ্যন্তরে উপকূল বা তীরবর্তী থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরুত্বে মরিচীকার দেখা মিলে। এই দৃষ্টিবিভ্রমের কারনে  দেড় কিলোমিটার বা তার চেয়েও বেশি দূরের কোন বস্তুকে চলমান মনে হয়।
যার কারনে দূর থেকে মরুভূমিতে কোন বস্তুর সঠিক অবস্থান বোঝা খুব দুষ্কর। এটা দূরবর্তী পরিসরের সীমারেখাকেও এতটাই অস্পষ্ট করে দেয় যার কারনে আপনার কাছে মনে হবে আপনি চারদিকে পানি পরিবেষ্টিত একটি দ্বীপে আছেন। 
 
মরীচীকার প্রভাবে পথের দূরুত্ব মাপা, গন্তব্য ঠিক করা অথবা কোন দূরবর্তী বস্তু পরিষ্কার ভাবে দেখা খুব কঠিন। ভূমির সমানন্তরালে অতি উত্তপ্ত বায়ুর কারনে যেহেতু এই দৃষ্টিবিভ্রম ঘটে আপনি যদি ভুপৃষ্ট থেকে তিন মিটার বা দশ ফিট উচু কোন জায়গায় দাঁড়াতে পারেন, মরীচীকার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারবেন। এটার কারনে প্রাকৃতিক চিহ্ন, বৈশিষ্ট্য অনেকটাই অস্পষ্ট হয়ে যায় বলে ল্যান্ড ন্যাভিগেশনও খুব কঠিন হয়ে যায়। তাই আশেপাশের এলাকা পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য  ভোর, সন্ধ্যা বা চাঁদের আলো বেছে নিতে পারেন কেননা তখন সূর্যের আলো না থাকায় দৃষ্টিবিভ্রমের সম্ভাবনা খুব কম থাকে।
আমাদের বাসযোগ্য এই ভৌগোলিক অঞ্চল থেকে মরু অঞ্চলে আলোর মাত্রা তীব্র হয়। এতটাই যে  পূর্নিমা রাতের আলো স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ মনে হয়। বাতাস নেমে যায়, অস্পষ্টতা কেটে যায় বলে চারপাশ চমৎকার দৃষ্টিগোচর হয়। খুব দূর থেকেও আপনি উজ্জ্বল এমনকি নিষ্প্রদীপ আলোও দেখতে পাবেন, শব্দও তখন অনেকদূর পর্যন্ত শোনা যায়।
অপরদিকে যখন চাঁদের আলো কম থাকে, চারদিক ঝাপসা দেখায় বলে এইসময় পথ চলা ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোন সময়ে পথ হারিয়ে ফেলতে পারেন, খাল বা গিরিখাতে পরে যেতে পারে্ন অথবা শত্রুর অবস্থানের মধ্যেও হুমড়ি খেয়ে পরতে পারেন। একমাত্র এই রাতে চলা আপনার তখনই উচিত হবে যদি আপনার কাছে কম্পাস থাকে এবং সারাদিন যথেষ্ঠ বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি চারপাশ পর্যবেক্ষন করে দিকনির্দেশনাগুলো চিনে যাত্রাপথ ঠিক করে রাখতে পারেন।

পানির প্রয়োজনীয়তা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে যখন ইউএস আর্মি আফ্রিকার মরূভূমিতে যুদ্ধ করার  জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করছিল, তখন থেকেই মরুভূমিতে পানির পরিমানের প্রয়োজনীয়তাটুকু আলোচনায় আসে।  এক সময় তারা ভেবেছিল, প্রশিক্ষনের সময় পানির সাপ্লাই কমিয়ে দিলে এটা তাদের কম পানি পান করেও টিকে থাকতে সাহায্য করবে। তারা এটাকে ওয়াটার ডিসিপ্লিন বলত কিন্তু এটার কারনে মরুর তীব্র তাপ অনেককে অসুস্থ করে ফেলেছিল। 
তাই মরুপ্রান্তরে টিকে থাকার ক্ষেত্রে আপনাকে শারীরিক কার্যাবলি ও বায়ুর তাপমাত্রার সাথে  পানি পান করার পরিমান কতটুকু দরকার, তা বুঝতে হবে। একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটা লেভেল পর্যন্ত কাজকর্মের জন্য আপনার নির্দিষ্ট পরিমান পর্যন্ত পানি পান করতে হবে। যেমন ধরুন, ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় আপনি কঠোর পরিশ্রম করলে সেক্ষেত্রে আপনার  জন্য একদিনে ১৯ লিটার পানি প্রয়োজন। পরিমিত পরিমান থেকে কম পানি পান আপনার সুষ্ঠুভাবে কাজ করার ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিবে।
 
আপনার শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা যেখানে ৯৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সেখানে ঘাম ঝরার কারনে শরীরের অতিরিক্ত তাপটুকুও বের হয়ে যায়। বায়ুর তাপের কারনে, ব্যায়াম বা কাজের ফলে শরীর গরম হয়ে গেলে ঘামের সাথে শরীর থেকে বেশি তাপ বের হয়ে যায়। যতবেশি তাপ বের হবে আপনার শরীর ততই আদ্রতা হারাবে। ঘাম ঝরাটাই শরীরে পানির পরিমান কমিয়ে দেয়। এই অবস্থায় যদি তীব্র তাপমাত্রায় বা ভারি কাজ অথবা ব্যায়ামেও আপনার শরীর ঘামা বন্ধ হয়ে যায়, আপনি হিট স্ট্রোকের শিকার হতে পারেন। এক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ মেডিকেল চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
 
আপনার কাছে যেই পরিমান পানির সাপ্লাই আছে সেটাকে আপনি কিভাবে সর্বোচ্চ মিতব্যয়িতার সাথে কাজে লাগাতে পারবেন তার জন্য পানির চাহিদার উপর বায়ুর মাত্রার উঠানামা ও শারীরিক কার্যাবলির সম্পর্ক বুঝে সেই অনুযায়ী চলতে হবে। যেমন-

  • ছায়াতে অবস্থান করবেন। চেস্টা করবেন, রৌদ্র থেকে দূরে থাকতে।
  • দিনে সেখানে বালি উত্প্ত হয়ে থাকে, তাই সরাসরি বালিতে না বসে বসার আগে উপরে কিছু বিছিয়ে নিবেন।
  • দরকার ছাড়া চলাচল করবেন না।
  • চেস্টা করবেন, পুরোশরীর ঢেকে রাখতে। জামার হাতা নামিয়ে রাখবেন, মাথা, ঘাড় কোন কাপড়ের টুকরো বা ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখুন। এটা মরুর গরম বাতাস ও সূর্যের প্রত্যক্ষ আলোর সংস্পর্শ থেকে আপনাকে বাঁচাবে। এই কাপড় আপনার ঘাম শুষে নিবে এবং আপনার ত্বককে  ঠান্ডা স্পর্শ দিবে। সম্ভব হলে ছায়ার মধ্যে একজায়গায় মুখ সহ সম্পূর্ন শরীর পোষাকে ঢেকে, কথা না বলে শুধু নাক দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস ছাড়ুন। এটা  আপনার পানির চাহিদাকে বহুলাংশে কমিয়ে দিবে।
  • যদি আপনার কাছে পর্যাপ্ত পানি না থাকে তবে খাবার খাবেন না। কেননা খাবার হজমের জন্য পানির প্রয়োজন হয় যেটা আপনার শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য পরিমিত পানির চাহিদা সরবরাহে ঘাটতি ঘটাবে।

তিনধরনের কাজের মাত্রাবুঝে  প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা
এক্ষেত্রে টিকে থাকার জন্য আপনার যে পরিমান পানির প্রয়োজন সেটা পানির তৃষ্ণা থেকেও বেশি পরিমানে দরকার। পানিতৃষ্ণা কে প্রয়োজনীয় পরিমান পানির গাইড হিসেবে ব্যবহার করলে আপনি প্রয়োজনীতার মাত্র দুই তৃতিয়াংশ পানি পান করবেন যেটার কারনে ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে। তার জন্য-

  • তাপমাত্রা যদি ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে হয়, প্রতি ঘণ্টায় .৫ লিটার পানি পান করুন
  • আর ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে হলে, প্রতি ঘন্টায় এক লিটার পানি পান করুন

 একটা নির্দিষ্ট বিরতিতে পানি পান করলে তা আপনার শরীরকে ঠান্ডা রাখবে,ঘামও কম ঝরবে। এমনকি যদি পানির সাপ্লাই কমেও যায়, কিছু সময় পর পর চুমুক দিয়ে পানি পানও শরীরকে ঠান্ডা রাখবে। ঘাম ঝরে পানির ঘাটতি দেখা দিবে কম। শরীরে পানির ঘাটতি কমানোর জন্য চেস্টা করবেন দিনের তাপে যতটা সম্ভব কাজ কম করতে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখবেন, পানি জমিয়ে রাখার চেস্টা করবেন না। এতে করে হিট ক্যাজুয়ালিটি্র শিকার হতে পারেন।

টিকে থাকার সংগ্রামে মানসিক চাপ, প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব সহ বিভিন্ন কারনে হিট ক্যাজুয়ালিটির শিকার হওয়া সম্ভাবনা থাকে। অপর্যাপ্ত পানি সাপ্লাই এর কারনে এবং মেডিকেল ট্রিট্মেন্ট এর ব্যবস্থা না থাকলে হিট ক্যাজুয়ালিটির শিকার হলে নিচের বিষয়গুলো অনুসরন করবেন-

HEAT CRAMPS
অতিরিক্ত ঘামের কারনে শরীর থেকে লবণ বের হয়ে গেলে হিট ক্রাম্প হয়। এটার কারনে হাতে, পায়ে ও তলপেটে সামান্য থেকে মারাত্নক মাংশপেশির খিঁচুনি হয়। পেশিতে সামান্য স্বাচ্ছন্দ্যবোধের অভাব থেকেও এটার শুরু হতে পারে। যদি এরকম কিছু  অনুভব করেন, তখনই কাজ বন্ধ করে ছায়ায় বসে আশ্রয় নিন। এটার লক্ষ্য না বুঝে আপনি পরিশ্রম চালিয়ে গেলে মাংশপেশিতে মারাত্নক খিঁচুনি ও ব্যাথা শুরু হয়ে যেতে পারে।

HEAT EXHAUSTION
শরীর থেকে অনেক পানি ও লবণ বের হয়ে গেলে এটা থেকে হিট একজসচন হতে পারে। মাথা ব্যাথা, মানসিক ভাবে এলোমেলো অবস্থা, বিরক্তি, অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা, মাথা ঘুরা, খিঁচুনি, চামড়া বিবর্ণ, স্যাঁতস্যাঁতে ও ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এটার উপসর্গ। এগুলোর কয়েকটি দেখা দিলে সেই ব্যক্তিকে যতদ্রুত সম্ভব ছায়াতে নিয়ে যান, মাটি থেকে অন্তত ১৮ ইঞ্চি উচু কোন স্ট্রেচার বা এজাতিয় কিছুতে শুইয়ে দিয়ে তার পরিধেয় জামাকাপড় ঢিলা করে দেন। সাথে বাতাস করুন, মুখে পানি ছিটিয়ে দিন। সাথে প্রতি তিন মিনিট পর পর তাকে অল্প অল্প করে পানি খাওয়ান। এবং অবশ্যই তাকে ছায়ার মধ্যে শান্ত হয়ে বিশ্রাম করতে বলুন।

HEAT STROKE
তীব্রমাত্রায় পানির ও লবণ শরীর থেকে বের হয়ে গেলে শরীর নিজেকে ঠান্ডা করার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে আর এটাই হিট স্ট্রোক ঘটায়। এমন অবস্থায় যদি রোগীর শরীর তৎক্ষণাৎ ঠান্ডা না করা হয়, রোগী মারাও যেতে পারে। এটার উপসর্গ গুলো হলো কম ঘাম, গরম ও শুষ্ক চামড়া, মাথা ব্যাথা, বিরক্তি, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, মানসিকভাবে এলোমেলো হয়ে যাওয়া এবং নাড়ির গতি বেড়ে যাওয়া। এরকম হলে রোগীকে সাথে সাথে ছায়ায় নিয়ে  গিয়ে মাটি থেকে অন্তুত ১৮ ইঞ্চি উচু কোন স্ট্রেচার বা এক ধরনের কিছুর উপর শুইয়ে দিয়ে  গায়ের কাপড় ঢিলে করে বাতাস করতে থাকুন। সাথে তার উপর পানি ঢালতে থাকুন ( পানি বিশুদ্ধ বা লবণাক্ত হলেও সমস্যা  নাই)। পাশাপাশি হাত, পা ও শরীর ম্যাসেজ করুন। যদি সে জ্ঞান ফিরে পায়, প্রতি তিন মিনিট পর পর তাকে অল্প অল্প করে পানি খেতে দিন।

পূর্বসতর্কতা

এই উষর প্রান্তরে টিকে থেকে বেঁচে ফিরে আসার লড়াইয়ে স্বাভাবিক ভাবেই আপনার কাছে মেডিকেল সাপ্লাইজ থাকবে না এইসব হিট ক্যাজুয়ালিটিস থেকে বাঁচার জন্য। তার জন্য অতিরিক্ত সতকর্তা অবলম্বন করুন যাতে এগুলোর শিকার না হতে হয়। এক্ষেত্রে নিচের গাইডলাইন গুলো আপনার সাহায্যে আসবে। পাশাপাশি  দিনে যতটা সম্ভব বিশ্রাম করুন, রাতে কাজ করুন।

  • কোথাও যাওয়ার আগে কোথায় যাচ্ছেন এবং কখন ফিরবেন তা অবশ্যই কাউকে বলে যান।
  • হিট ইনজুরির উপসর্গ গুলো খেয়াল করুন। গ্রুপের মধ্যে কেউ যদি ক্লান্তির কথা জানায়, তার প্রতি মনোযোগ দিন। সে হিট ক্যাজুয়ালিটির শিকার হয়ে থাকতে পারে।
  • প্রতি ঘন্টায় অন্তত একবার হলেও পানি পান করুন।
  • যখন বিশ্রাম করবেন তখন ছায়াতে থাকুন। সরাসরি বালি বা মাটির উপর শুবেন না।
  • পরিধেয় পোষাক খুলবেন না। আর দিনে কাজ না করার চেস্টা করবেন।
  • আপনার প্রসাবের রঙ খেয়াল করুন। হালকা রং হলে আপনার পানি পানের পরিমান ঠিক আছে। আর রং গাঢ় হওয়া মানে পানির ঘাটতি আছে। সেক্ষেত্রে পানি পানের পরিমান বাড়ান।

মরু বিপদ

মরুর হাজারো বিপদের মধ্যে পোকামাকড়, সাপ, কাটাঝোপঝাড়, ফণীমনসা, দূষিত পানি, রোদে পোড়া, চোখ জ্বালা উল্লেখযোগ্য কিছু । বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের আবাস সেখানে যেগুলার অনেকগুলো আবার রোগবাহী। পুরনো দালান, গর্ত এগুলা  যদিও আপনাকে নিরাপত্তা দিবে কিন্তু এগুলা মাকড়শা, বিচ্ছু, শতপদী, উকুন সহ বিভিন্ন প্রানীর আবাসস্থল। এসব জায়গায় থাকলে অতিরিক্ত সতর্ক থাকুন। সবসময় চোখে গগলস পড়ুন, না দেখে যেখানে সেখানে হাত দিবে না, পা ফেলার আগে, বসার আগে, শোয়ার আগে জায়গাটি নিরাপদ কিনা দেখে নিন। আর প্রায় সব মরু অঞ্চলে সাপ থাকে। আদিবাসিদের গ্রাম, ময়লার ফেলার জায়গা, গর্ত, পাথরের নিচে যেখানে ছায়া থাকে সেখানেই এগুলার আসাবস্থল বেশি থাকে। এসব জায়গায় কখনো খালি পায়ে যাবেন না। ঘুম থেকে উঠে জুতা মোজা পরার আগে ভিতরটা দেখে নেন। অনেক সময় সাপ, বিচ্ছু ঢুকে বসে থাকে। এসব জায়গার হাটার আগে সতর্ক ভাবে হাটুন। অধিকাংশ সময় ভুল জায়গায় পা ফেলা থেকে সাপের কামড় খেতে হয়। কোথাও সাপ দেখলে, সেখান থেকে যথেষ্ট দূরুত্ব বজায় রেখে নিজের কাজ করুন।

'

* লেখাটি সার্ভাইভাল গাইড ফিচারের অন্তর্ভূক্ত।